
সারমিন চৌধুরী
দিবা অন্তে গোধূলির গাত্রে মাথা রেখে
রাতের নক্ষত্ররাজি স্পষ্ট হয়ে ওঠে দ্যুলোকে
নিথর ঈপ্সাগুলো নেমে আসে যেন তুমি হয়ে
আঙ্গিনায় ঘ্রাণ বিলানো গোলাপের পাপড়ি ছুঁয়ে
বক্ষ অলিন্দে নিভৃতে জেগে ওঠে দুর্ভিক্ষ!
নিঃশব্দে তোমার প্রস্থান করা সেই স্থানটুকুতে।
এই চাঁদনি রাতে আজও হৃদ আকাশে চড়ে বেড়ায়
চুপিসারে শুধু কিছু ফুটফুটে স্মৃতির তারাফুল
সমুদ্র লহরী এসে ছুঁয়ে যায় উপত্যকা
আঁধার ছাপিয়ে আলো ধুয়ে দেয় আলেয়ার মুখ
জলকেলি, কিংবা জোনাকির কিঞ্চিৎ আলো
এখনো বড্ড আনমনা করে দেয় হৃদভূমিকে
তবু অপেক্ষাকে জিইয়ে হেরে গিয়েও স্বস্তি চেয়েছি
অভিমান জলাঞ্জলি দিয়ে সমীপে টেনেছি,
ততবারই তুমি আঘাতে টুকরো করেছ পাঁজর।
ওই সুউচ্চ পাহাড় থেকে পাদদেশে নেমে গিয়ে
তোমাকে ছুঁতে নতজানু হয়েছি অহর্নিশি,
শ্রাবণের প্রথম বর্ষণের মতোই নিখাঁদ প্রেমরূপে
সর্বত্রই তোমার তালাশ করেছি দূরত্ব ঘোচাতে।
এক আকাশ ব্যবধান সময়ের বারণ উপেক্ষা করে
যখন মনের মণিকোঠায় সাজাতে চেয়েছি তোমাকে
তখনই মিছে অহমিকায় ভেসেছো ভাব সাগরে
তাই, সেইসব মধ্যাহ্ন কিংবা গোধূলির গল্প
চুপচাপ গিলে ফেলেছি, বলাও হয়নি শেষ কথা
যাও আড়াল করে নিলাম নিজেকে তার আগে।



