আন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্র

সবুজ জ্বালানির প্রথম যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ

সবুজ জ্বালানিতে চলা প্রথম যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা করেছে। বিকল্প জ্বালানিতে ফ্লাইট পরিচালনার দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী উড়োজাহাজটি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে নিউ ইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে। এই ট্রান্স আটলান্টিক ফ্লাইট পরিচালনা করে ভার্জিন আটলান্টিক, যেখানে সরকারি সহযোগিতাও ছিল।

গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস করতে বিশ্বব্যাপী সবুজ জ্বালানিতে উড়োজাহাজ পরিচালনার দাবি করে আসছিলেন বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা। শেষ পর্যন্ত বিশে^ সেই যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত দেখা গেল। টেকসই অ্যাভিয়েশন জ্বালানি (সাফ) নানা ধরনের শস্য ও গৃহস্থালির বর্জ্যসহ নানা উৎস থেকে আসে। ‘বোয়িং ৭৮৭’ বিমানটিতে ৫০ টন বিকল্প জ্বালানি দিয়ে পূর্ণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৮ শতাংশ এসেছে পরিত্যক্ত চর্বি থেকে এবং বাকিটুকু যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত শস্যের বর্জ্য থেকে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নানা পর্যবেক্ষণের পর যুক্তরাজ্যের সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটিকে চলতি মাসে ফ্লাইটটি ওড়ার অনুমতি দেয়। এই প্রকল্পে অনেকগুলো কোম্পানি জড়িত ছিল। এর মধ্যে অন্যতম ইঞ্জিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রলস-রয়েস এবং জ্বালানি খাতের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি)।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অ্যাভিয়েশন খাতকে সম্পূর্ণভাবে কার্বনশূন্য (ডি-কার্বনাইজ) করা সম্ভব নয়। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করলেও কার্বন নিঃসরণ হবে। তবে এসব জ্বালানি ‘জীবনচক্র জুড়ে নিঃসরণে’ ৭০ শতাংশ কম অবদান রাখে । এয়ারলাইনস খাত-সংশ্লিষ্টরা বলেন, গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে তারা বিকল্প জ্বালানিকে সবচেয়ে উপযোগী উপায় হিসেবে ব্যবহার করতে চান।

ভার্জিন আটলান্টিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাই ওয়েইস বলেন, গতকাল মঙ্গলবার বিকল্প জ্বালানিতে উড্ডয়ন করা উড়োজাহাজের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, জীবাশ্ম জ্বালানির জায়গা দখল করতে পারে টেকসই অ্যাভিয়েশন জ্বালানি। তিনি বলেন, ‘এটি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ এক অর্জন।’

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension