
সাবেক মেয়র আনিসুল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক মেয়র আনিসুল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দিনটি উপলক্ষে আজ শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) বাদ আসর গুলশান আজাদ মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। পবিবারের পক্ষ থেকে বিশেষ দোয়া ও খাবার বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।
আনিসুল হকের গড়া প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদী গ্রুপে ২৮ নভেম্বর বুধবার দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়। পরের দিন বৃহস্পতিবার আনিসুল হকের চেম্বারে বিশেষ কোরআন তেলাওয়াতের আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই সপরিবারে লন্ডনে যান আনিসুল হক। সেখানে তিনি সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিসে (মস্তিষ্কের রক্তনালির প্রদাহ) আক্রান্ত হন। ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
আনিসুল হক ২০১৫ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ডিএনসিসির মেয়র নির্বাচিত হন। রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও ‘স্মার্ট’ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নেয়া বেশকিছু উদ্যোগের কারণে তিনি সকলের কাছে বেশ প্রশংসিত ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন
তার উদ্যোগে শহরের পথচারীদের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হয় আধুনিক টয়লেট। এজন্য আনিসুল হককে ঘিরে শহরবাসীর মনে একটি বিশেষ আস্থার জায়গা তৈরি হয়। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার এক বছরের মধ্যেই তিনি ঢাকা শহর থেকে সব বিলবোর্ড উচ্ছেদ করেন, যা সাধারণ নগরবাসীর কাছে আজও স্মরণীয়।
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনালের সড়ক দখলমুক্ত করতে গিয়ে তিনি চালকদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। পরে তার নেতৃত্বে ডিএনসিসি ওই সড়ক দখলমুক্ত করে। শহরের বিভিন্ন এলাকার পার্কগুলোর বেশিরভাগই দখলদারমুক্ত করেন আনিসুল হক।
গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকায় বিশেষ রঙের রিকশা এবং ‘ঢাকা চাকা’ নামে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস সেবা চালু করেন আনিসুল হক। বিমানবন্দর সড়কে যানজট কমাতে মহাখালী থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কে ইউলুপ করার উদ্যোগ নেন আনিসুল হক।
আনিসুল হকের জন্ম নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। আশির দশকে টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘আনন্দমেলা’ ও ‘অন্তরালে’ নামে দুটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করতেন।



