
সালমান হত্যার বিচারের দাবীতে সম্পূর্ণ একা দাঁড়িয়ে
‘পারিবারিক কলহের’ জেরে আত্মহত্যা করেছেন সালমান- সিআইডি কিংবা পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে এ কথা বারবার বলা হয়েছে। তার ভক্তরা বহুবার এসব তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। করেছেন মানববন্ধন।
এবারে সালমান শাহ্র এক ভক্ত সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ নিয়ে বিচারের দাবী দাঁড়িয়েছেন একজন, সম্পূর্ণ একা। তার নাম মাসুদ রানা নকীব। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ব্যানার, ফেস্টুন হাতে করে একা দাঁড়িয়েছিলেন নকীব। প্রেস ক্লাবের দেয়ালে ঝোলানো ব্যানারে লেখা ছিল, ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত সাপেক্ষে চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র রহস্যজনক অকাল মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করছি।’
নকীব বলেন, ‘তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বারবার সালমানের পারিবারিক কলহের ব্যাপারে কথা বলছে। শাবনূরের সঙ্গে প্রেমের কথা বলছে, যদিও সালমান তাকে বোনের চোখে দেখত। অথচ তার ওপর বেশ কয়েকবার সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করেছে, তাকে হত্যাচেষ্টা হয়েছে। সবশেষ মৃত্যুর আগে ২২ আগস্ট (১৯৯৬) শ্বশুরবাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। ১৯৯৫ সালের ২৯ জুলাই ঢাকার তেজতুরি বাজার এলাকায় নাটকের শুটিং করার সময় তাকে আক্রমণ করা হয়। একরাতে সালমানকে ধানমন্ডি ঈদগাহ মাঠে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করা হয়। সে ঘটনায় তার হাতের তালু কেটে গিয়েছিল। এ সকল বিষয় ওই সময়ের পত্র-পত্রিকায় এসেছে। বিষয়গুলো একবারও তদন্তকারীরা আমলে নেন নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাকে ঘিরে এফডিসিতে অনেক ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারকে কেন্দ্র করে তার এক বক্তব্যকে ঘিরে তাকে নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু তার কোনও বক্তব্য শোনার প্রয়োজন মনে করে নি শিল্পী সমিতি। ওই নিষিদ্ধের ঘটনায় কাজ করতে না পারায় তার শিডিউল জটিলতা তৈরি হয়, যা নিয়েও তাকে হয়রানি করা হয়। এছাড়া তাকে বহুবার হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এগুলো কেন তদন্তকারীরা দেখল না।’
কিন্তু একা একা মানববন্ধনের কারণ কী? নকীব বলেন, ‘অনলাইন-অফলাইনে সালমান ভক্তরা এক হয়ে কাজ করি। চাইলে সবাই মিলে মানববন্ধন করা যেত। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে আমি একাই করার সিদ্ধান্ত নিই।’❐



