
সিলেটে নিজ ঘরে শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা
সিলেটের ওসমানীনগরে তপতী চৌধুরী (৫৫) নামের এক শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। দয়ামীর ইউনিয়ন পরিষদের সোয়ারগাও খয়েরপুর গ্রামে নিজ ঘর থেকে শনিবার মধ্যরাতে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে ওসমানীনগর থানা পুলিশ। এ সময় ওই ঘর থেকে গৌরচান বিশ্বাস ওরফে গৌরাঙ্গ (২৪) নামের এক গৃহকর্মীরও ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, তপতী চৌধুরীকে হত্যার পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন গৌরাঙ্গ।
তপতী খয়েরপুর সোয়ারগাও গ্রামের ডা. বিজয় ভূষণ দের স্ত্রী এবং স্থানীয় সোয়ারগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। গৌরাঙ্গ পার্শ্ববর্তী বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের মোহন লাল বিশ্বাসের ছেলে। গৌরাঙ্গ সাত বছর ধরে ওই বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করে আসছিলেন।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, তাজপুর বাজারে নিজ চেম্বার থেকে শনিবার রাত ৮টার দিকে বাসায় ফেরেন তপতীর ছেলে ডা. বিপ্লব দে। বসতঘরের দরজা-জানালা বন্ধ থাকার পাশে চাচার বাড়িতে খোঁজ করেন। না পেয়ে পুনরায় বাড়ি এসে মাকে ডাকাডাকি করেন, মায়ের মোবাইল ফোনে কল দেন। কিন্তু ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তিনি ফোনে বিষয়টি বাবা ডা. বিজয় দেকে জানান। তিনিও বাড়িতে ফিরে স্ত্রীকে খোঁজাখুঁজি করেন। না পেয়ে পুলিশে খবর দেন। মধ্যরাতে থানা থেকে পুলিশের একটি দল এসে শৌচাগারের জানালার লোহার গ্রিল কেটে ঘরে ঢোকে। পুলিশ সদস্যরা সেখানে শিক্ষকের ক্ষতবিক্ষত লাশ ও গৃহকর্মীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তপতী হত্যায় ব্যবহার করা রক্তমাখা একটি বঁটি দা ও চাকু উদ্ধার করে। পরে দুজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নেয়।
ডা. বিপ্লব দে বলেন, গৌরাঙ্গ প্রায় সময় খাবারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মায়ের (তপতী) সঙ্গে ঝগড়া করত। এর জের ধরেই সে মাকে হত্যা করতে পারে। তপতী চৌধুরীর ভাতিজা চয়ন দে বলেন, আমাদেরও ধারণা গৌরাঙ্গই চাচিকে খুন করেছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা সিলেটের পুলিশ সুপার মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, বাড়িতে তপতী ও গৌরাঙ্গই ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তপতীকে হত্যা করে গৌরাঙ্গ আত্মহত্যা করেছেন। তপতীর লাশের পাশে একটি দা ও একটি চাকু পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো দিয়েই গলা ও পিঠে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওসমানীনগর থানার ওসি শ্যামল বণিক রোববার বিকালে বলেন, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয় নি। মামলার প্রস্তুতি চলছে।



