
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবারও অভিযান চালিয়েছে দুদক
কোনও রকম নিয়মনীতির না মেনেই রিজেন্ট হাসপাতালকে করোনা পরীক্ষার অনুমতি দেওয়াসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানাসহ অন্তত ১২ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
পাঁচ দিনের ব্যবধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবারও অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ ১৯ জুলাই রোববার বাংলাদেশ সময় দুপুর পৌনে ৩টার দিকে অভিযান শুরু হয়। শেষ হয় বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে।
দুদকের অনুসন্ধান টিম প্রধান মো. আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে একটি টিম এ অভিযান পরিচালনা করেছে।
দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, নথিপত্রে যাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে তাদেরই দুদকের মুখোমুখি হতে হবে। রিজেন্ট হাসপাতালকে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য যারা অনুমতি দিয়েছেন, যারা স্বাক্ষর করেছেন, যাকেই দরকার তাকেই জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক।
দুদকের অনুসন্ধানটা হবে, সরকারের সঙ্গে কীভাবে চুক্তি হলো, লাইসেন্স ছিল কিনা এবং জনগণের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা।
দুদক সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে রিজেন্ট হাসপাতালের যে চুক্তি হয়, তাতে অর্থের বিনিময়ে করোনার নমুনা সংগ্রহের বিষয়টি ছিল না। কিন্তু কোভিড-১৯ প্রতি টেস্ট বাবদ সাড়ে ৩ হাজার টাকা করে নিত রিজেন্ট হাসপাতাল। এরপরও রিজেন্ট হাসপাতাল পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট দিত।
এর আগে গত ১৫ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযান চালিয়ে রিজেন্ট হাসপাতালের লাইসেন্স ও করোনা পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে রিজেন্ট হাসপাতালের মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারটেকিংসহ (এমওইউ) সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জব্দ করে তারা।
ওই অভিযানের সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিজি অধ্যাপক নাসিমা সুলতানার সঙ্গে রিজেন্ট হাসপাতালের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আলোচনা করে দুদক টিম। অভিযানকালে অনেক নথিপত্র মেলে নি। প্রাথমিকভাবে নথি যাচাই-বাছাইয়ে কাগজপত্রের অসঙ্গতি পাওয়া যায়। লাইসেন্সের কপি পেলেও ছিল না নবায়ন কিংবা হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট অনেক বিভাগের অনুমোদন। এমনকি কোভিড-১৯ এর এমওইউ এর কাগজপত্রেও অসঙ্গতি পাওয়া যায়।
সাহেদের বিরুদ্ধে মাইক্রোক্রেডিট ও এমএলএম ব্যবসার নামে জনসাধারণের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত, আয়কর ফাঁকি, ভুয়া নাম ও পরিচয়ে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। ৩ জুলাই অনুসন্ধানে তিন সদস্যের টিম গঠন করা হয়।
উপপরিচালক মো. আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে টিমের অপর দুই সদস্য হলেন, সহকারী পরিচালক মো. নেয়ামুল হাসান গাজী ও শেখ মো. গোলাম মাওলা।
অভিযান শেষে উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আমরা রিজেন্ট হাসাপাতালের বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত চেয়েছিলাম। বেশ কিছু পেয়েছি, এখনও কিছু তথ্য পায় নি। ডিজি আশস্ত করেছেন ২০ জুলাই মধ্যে সব তথ্য দেবেন। কাগজপত্র পেলে তা বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ❑



