যুক্তরাষ্ট্র

৯৯% করোনা আক্রান্তের ক্ষেত্রে ক্ষতির কোনও সম্ভাবনাই নেই : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে চলমান মহামারিকে উপেক্ষা করেই বিশাল জনসমাগম ঘটিয়ে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে উদযাপনে মেতেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চলমান সংকটের মাঝে তার এই আয়োজন ও সেই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের করোনা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিতর্কিত বক্তব্য উপস্থানকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা।

নিজের বক্তব্যের এক পর্যায়ে ট্রাম্প দাবী করেন, যুক্তরাষ্ট্রে শতকরা ৯৯ ভাগ করোনা আক্রান্তের ক্ষেত্রে কোনও প্রকার ক্ষতির সম্ভাবনাই নেই। তার এমন অযৌক্তিক ও অপ্রত্যাশিত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তাই মার্কিন বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, ‘এই তথ্য কোথায় পেলেন তিনি!’

৫ জুলাই রোববার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, জাতীয় উদযাপনে হোয়াইট হাউজের সাউথ লনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে সস্ত্রীক উপস্থিত হন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সামরিক যুদ্ধ বিমান উড্ডয়ন, প্যারাস্যুট জাম্প ও দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে চলে উদযাপনের পালা। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে জাতির উদ্দেশ্যে বিবৃতি দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

গার্ডিয়ানের দাবী, বিবৃতি প্রদানকালে যুক্তরাষ্ট্রের করোনা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে একের পর এক অসংলগ্ন ও ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করেছেন ট্রাম্প। তার মতে, করোনা মোকাবিলায় সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দু’একটি অঞ্চলে সংক্রমণ ঘটছে আর বাকিগুলো এরইমধ্যে করোনা জয় করে উঠে দাড়াতে শুরু করেছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তার মতে, দেশটির শতকরা ৯৯ ভাগ সংক্রমণের ক্ষেত্রে কোনও প্রকার ক্ষতির সম্ভাবনাই নেই।

তিনি বলেন, আমরা এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ মিলিয়ন মানুষের করোনা পরীক্ষা করিয়েছি। এর মাঝে যে পরিমাণ আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে তাদের শতকরা ৯৯ ভাগের ক্ষেত্রেই কোনও প্রকার ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। আমরা করোনাকে পরাস্ত করে উঠে দাঁড়াতে শুরু করেছি। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ সফল।

অথচ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সংক্রামক ব্যাধি গবেষক ড. এনথনি ফউসিয়ার দেয়া তথ্য মতে, বাস্তবতা হচ্ছে- করোনা সংক্রমনের আঘাতে এরইমধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বিপর্যস্ত রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২.৮ মিলিয়ন এবং মৃতের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার। শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা গড়ে প্রায় ৫০ হাজার। যা এপ্রিল মাসে দেশটিতে করোনা সংক্রমন শুরুর পর্যায় থেকেও বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত করোনা পরিস্থিতির সঙ্গে এত অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করায় এবং করোনা মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা নিয়ে তাই সমালোচনায় সরব হয়ে উঠেছে দেশটির বিভিন্ন পর্যায়ের গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে ট্রাম্পের এসকল ‘উদ্ভট’ মন্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য ও অবাস্তব বলেও দাবি করেন তারা।

তবে করোনা মোকাবিলার কাজে দেশটির দায়িত্বশীল পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিদের সবচেয়ে বিস্মিত করেছে, ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে ট্রাম্পের ‘নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক মিথ্যাচার।’

ট্রাম্পের ভাষ্য মতে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ করোনা নিরাময়ে কার্যকর থেরাপিওটিক চিকিৎসা ব্যবস্থা বা প্রতিষেধক হিসেবে কার্যকর ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে বলে জানা যায়। অথচ দেশটির করোনা ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে চলমান গবেষণার কাজে সম্পৃক্ত কোনও সূত্রের সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়াই এই বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন ট্রাম্প। এমনটাই দাবি দ্য গার্ডিয়ানের।

তবে ধারণা করা হচ্ছে, নভেম্বরের ৩ তারিখে আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরেই ‘বছরের শেষ নাগাদ করোনা ভ্যাকসিন প্রাপ্তির’ এই ভিত্তিহীন তথ্য জানিয়েছেন ট্রাম্প। যেখানে করোনা ভ্যাকসিনকে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের মাধ্যম হিসেবে উপস্থাপন করেছেন ট্রাম্প।⛘

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension