প্রধান খবর

নেতানিয়াহুর কূটচালের বলি হতে যাচ্ছে জর্ডান

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি দফায় দফায় ব্যর্থ হয়েছে। এখন বিশ্বের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কারণেই বারবার ভেস্তে যাচ্ছে এ আলোচনা।

এই বাস্তবতা এত দিন বুঝতে না পারলেও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট ও মোসাদের পরিচালক ডেভিডও এখন তা হারে হারে টের পাচ্ছেন। তাদের আলোচনার টেবিলে ঠেলে দিয়ে, জটিল এক খেলায় মেতে উঠেছেন নেতানিয়াহু।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব করা একটি যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে অনেকটাই সম্মত হয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন। কিন্তু নেতানিয়াহু এমন কোনো কিছু মানতেই নারাজ। কারণ যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে নেতানিয়াহু সরকারের পতন ঘটবে। আর জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য মাঝে মধ্যেই যুদ্ধ শুরুর সুযোগও হারাবেন নেতানিয়াহু। সেটা খুব ভালোভাবেই জানেন তিনি। তাই ক্ষমতায় থাকতে যুদ্ধের কোনো বিকল্প নেই নেতানিয়াহুর কাছে। কেননা ক্ষমতা হারালেই জেলে যেতে হতে পারে নেতানিয়াহুকে।

তবে নেতানিয়াহুর এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় চরম মূল্য দিতে হচ্ছে জর্ডানকে। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলা যত তীব্র হয়, জর্ডানে শরণার্থীর ঢেউ তত প্রবল হয়। দশকের পর দশক শরণার্থীর ঢল সামাল দিতে হচ্ছে জর্ডানকে। এখন অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, নিজেদের খরচ মেটাতে পারছে না তারা। তাই জর্ডানকে বিদেশি সাহায্যের জন্য হাত পাততে হচ্ছে। এ ছাড়াও আরও বড় এক হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে জর্ডান। কেননা জর্ডানকে নিয়ে ভিন্ন এক ছক এঁকেছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলের ভেতর জর্ডানকে ঘিরে বিভিন্ন পরিকল্পনার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অ্যালন প্ল্যান। এই পরিকল্পনার প্রবর্তক ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতা ইগাল অ্যালন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, পশ্চিম তীরের একটা অংশ ইসরায়েল দখল করে নেবে। বাকি অংশ জর্ডানের অংশ হিসেবে যুক্ত করা হবে। তবে লিকুদ পার্টি চাইছে পুরো পশ্চিম তীর দখল করে নিক ইসরায়েল। আর জর্ডানকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।

সম্প্রতি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টিমও কাছাকাছি একটি আইডিয়া তুলে ধরেছে। তারা জর্ডান-ফিলিস্তিন কনফেডারেশনের দাবি তুলেছে। এই পরিকল্পনার কারণে অধিকৃত পশ্চিম তীরে গ্রাম ও শহর ছেড়ে যেতে হবে ফিলিস্তিনিদের অথবা বসতি স্থাপনকারীরা সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেবে। ইসরায়েলের ডিসকোর্স থেকে জর্ডানকে বিকল্প ফিলিস্তিন হিসেবে দেখার এই ধারণা কখনই বিলীন হয়নি। বরং এমন ধারণা আরও জোরালো হয়েছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension