
ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব অবসানের আহ্বান জাতিসংঘের
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এক বছরের মধ্যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ দখলদারিত্ব বন্ধ করার জন্য ইসরায়েল প্রতি আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এ পদক্ষেপটিকে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছে।
বুধবার ১২৪-১২ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ ৪৩টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। প্রস্তাবে বলা হয়, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলকে তার বেআইনি উপস্থিতি অবিলম্বে শেষ করতে হবে। দখলদারিত্বকে ‘অন্যায় কাজ’ অভিহিত করে জাতিসংঘ বলেছে, ১২ মাসের মধ্যে ইসরায়েলকে অধিকৃত ভূখণ্ড ছাড়তে হবে।
প্রস্তাবটি বাধ্যতামূলক না হলেও তেল আবিবের ওপর তা যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করবে। প্রস্তাবে দখলদারিত্বের কারণে ফিলিস্তিনিদের ক্ষতিপূরণের জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। আলজাজিরা বলছে, এই ভোট ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের আন্তর্জাতিক বিরোধিতার গভীরতাকে নির্দেশ করে৷
জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) সম্প্রতি যে পরামর্শমূলক মতামত দিয়েছে, নুতন প্রস্তাবে তাকেই সমর্থন করা হয়েছে। আইসিজে বলেছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের উপস্থিতি বেআইনি এবং অবশ্যই এর শেষ হওয়া উচিত।
ভোটের পরে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেছেন, প্রস্তাবটি স্পষ্ট করে দিয়েছে ইসরায়েলের ৫৭ বছরের দখলদারিত্ব আর চলতে দেওয়া যাবে না। ইসরায়েলকে অবিলম্বে পশ্চিম তীর থেকে তার বাহিনী প্রত্যাহার করে প্রস্তাব মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে অবৈধভাবে পূর্ব জেরুজালেম এবং ১৯৬৭ সাল থেকে দখল করা গাজা উপত্যকাও রয়েছে। ইসরায়েলকে অবশ্যই পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে সমস্ত বসতি স্থাপনকারীদের সরিয়ে নিতে হবে।
কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলের বেআইনি দখলদারিত্ব ফিলিস্তিনিদের জন্য ব্যাপকমাত্রায় অবিচার, রক্তপাত ও দুর্ভোগ নিয়ে এসেছে। গত ১১ মাসে পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘন, ইসরায়েলের নৃশংস দখলদারিত্ব ও বর্ণবাদী ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য মারাত্মকভাবে তীব্র হয়েছে।
জাতিসংঘের বার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিশ্বনেতাদের নিউইয়র্কে জড়ো হওয়ার কয়েক দিন আগে এ পদক্ষেপ ইসরায়েলকে আরও বিচ্ছিন্ন করবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। একই দিনে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও সেখানে ভাষণ দেবেন।
এটি ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের তোলা প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব। এ প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড বুধবার না ভোট দেওয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতি আহ্বান জানান। ইসরায়েলের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে।
আইসিজের পরামর্শমূলক মতামত বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এর গুরুত্ব রয়েছে; এটি ইসরায়েলের প্রতি সমর্থনও দুর্বল করতে পারে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবও বাধ্যতামূলক নয়, তবে এর রাজনৈতিক ওজন আছে। সাধারণ পরিষদে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করা যায় না।
জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদে বলেন, ‘প্রতিটি দেশের ভোট আছে এবং বিশ্ব আমাদের দেখছে। দয়া করে ইতিহাসের সঠিক প্রান্তে দাঁড়ান; আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে, স্বাধীনতার সঙ্গে, শান্তির সঙ্গে।’
১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইসরায়েল ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক এলাকা পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা এবং পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়।



