আন্তর্জাতিক

লন্ডনের ইঙ্গিত: যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করলে গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু

নেতানিয়াহু যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করলে তাকে আটক করা হবে কিনা জানতে চাওয়া হলে, প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল মুখপাত্র বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্ভূত বিষয়গুলোতে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি যোগ করেন, সরকার আইনের অধীন এবং অবশ্যই তার আইনি বাধ্যবাধকতাগুলো পূরণ করবে।

গাজা যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আদালতের রায় মেনে চলার অংশ হিসেবে নেতানিয়াহু যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করলে তাকে গ্রেফতারের মুখোমুখি হতে হবে। এর আগে, নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করার ব্যাপারে নিজেদের সম্মতি জানিয়েছে ইতালি, নেদারল্যান্ড ও কানাডা। খবর বিবিসি।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র নির্দিষ্ট মামলার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও বলেছেন যে, সরকার তার আইনি বাধ্যবাধকতা পালন করবে।

গত বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) আইসিসি গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। যুক্তরাজ্যসহ আদালতের সদস্য দেশগুলো একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে যা তাদের গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।

নেতানিয়াহু যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করলে তাকে আটক করা হবে কিনা জানতে চাওয়া হলে, প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল মুখপাত্র বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্ভূত বিষয়গুলোতে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি যোগ করেন, সরকার আইনের অধীন এবং অবশ্যই তার আইনি বাধ্যবাধকতাগুলো পূরণ করবে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, সরকার আইনে বর্ণিত প্রক্রিয়ার প্রতি অটল রয়েছে। দেশীয় আইন এবং অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত আইনি বাধ্যবাধকতাগুলো তারা সর্বদা মেনে চলবে।

তবে কোন মন্ত্রী এই প্রক্রিয়ায় জড়িত হবেন তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। সে সঙ্গে, এ রায় প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্য দেশটির শীর্ষ আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল লর্ড হারমারের কাছ থেকে মামলার বিষয়ে আইনি পরামর্শ চাচ্ছে কিনা সে প্রশ্নের উত্তরও দেননি মুখপাত্র।

নেতানিয়াহুর সঙ্গে এখনো কথা বলার ইচ্ছা রাখছেন কিনা জানতে চাওয়া হলে ইসরায়েলকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসাবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেছেন যে, সব স্তরে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের একটি সংলাপ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত মাসে লর্ড হারমার বিবিসিকে বলেছিলেন, আইসিসি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে তিনি তার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বিষয় দিয়ে প্রভাবিত করবেন না। তিনি বলেন, সরকার কী করতে চায় তা নির্দেশ করা অ্যাটর্নির কাজ নয়। অ্যাটর্নির ভূমিকা হল সাহসী আইনি পরামর্শ দেয়া যে, আইনের প্রয়োজনীয়তা কী, আইনের বিষয়বস্তু কী এবং আইন কোথায় নিয়ে যায়। আর সেটাই আমি করবো।

বৃহস্পতিবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর ডাউনিং স্ট্রিট বলেছিল যে, যুক্তরাজ্য সরকার আইসিসির স্বাধীনতাকে সম্মান করে এবং গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দেয়ার দিকে তারা মনোনিবেশ করছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈদেশিক নীতির প্রধান জোসেপ বোরেল আইসিসির এই রায় নিয়ে জানিয়েছেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা একটি আইনি বিষয়। রাজনৈতিক বিষয় নয়। ইইউয়ের ২৭টি সদস্য দেশ এবং অন্যান্য স্বাক্ষরকারী দেশগুলো এটি মানতে বাধ্য।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension