
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়: এখন কী হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের ভবিষ্যৎ?
রূপসী বাংলা: যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব বা “জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship)” নিয়ে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় নতুন করে বিতর্ক ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে এই রায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব কী?
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বলতে বোঝায়—যে কোনো শিশু যদি যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমার মধ্যে জন্মগ্রহণ করে, তবে তার বাবা-মায়ের অভিবাসন বা নাগরিক অবস্থান যাই হোক না কেন, সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হবে।
এই নীতির ভিত্তি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী, যেখানে বলা হয়েছে:
“যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নাগরিক হওয়া প্রত্যেকেই মার্কিন নাগরিক।”
সুপ্রিম কোর্ট কী বলেছে?
২০২৫ সালের এক ঐতিহাসিক মামলায় সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করেছে—১৪তম সংশোধনী নাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিত করে বটে, তবে এটি সবক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ নয়। বিশেষ করে যদি শিশুটির পিতামাতা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে থাকেন, সে ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের স্বীকৃতি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
আদালত বলেছে, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের তৈরি অভিবাসন নীতিমালার উপর নির্ভর করবে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের মাধ্যমে এই অধিকার সীমিত করা হতে পারে।
প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ
মানবাধিকার কর্মীরা এই রায়কে “সাংবিধানিক অধিকার সংকোচনের উদ্বেগজনক ইঙ্গিত” হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে কিছু রিপাবলিকান রাজনীতিবিদ রায়টিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি অবৈধ অভিবাসন রোধে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিক্রিয়া
নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে এই রায় নিয়ে উদ্বেগ ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যেসব পরিবার এখনও বৈধ কাগজপত্র প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় রয়েছে, তাদের সন্তানদের নাগরিকত্ব ভবিষ্যতে সংকটের মুখে পড়তে পারে—এই আশঙ্কা গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে।
উপসংহার
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব এখন আর শুধুই একটি সাংবিধানিক অধিকার নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির কেন্দ্রীয় বিতর্কে পরিণত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ভবিষ্যতের আইন ও সমাজে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।



