
দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান উত্তর কোরিয়ার
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সংলাপের যে কোনো সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে কোনো নীতি বা পুনর্মিলনের প্রস্তাবে উত্তর কোরিয়ার কোনো আগ্রহ নেই বলেও জানান তিনি।
সোমবার (২৮ জুলাই) রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যমের জারি করা এক বিবৃতিতে, কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়ার উদারপন্থি প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং-এর শান্তি প্রস্তাব ও পিয়ংইয়ং-এর সাথে সিউলের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেন।
সরকারি কেসিএনএ সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত মন্তব্যে কিম ইয়ো জং বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া যদি কিছু আবেগঘন কথার মাধ্যমে (তার কর্মকাণ্ডের) সমস্ত পরিণতি উল্টে দেয়ার আশা করে, তবে এর চেয়ে বড় ভুল আর কিছু হতে পারে না।’
এছাড়া উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কিম ইয়ো জং বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া-মার্কিন নিরাপত্তা জোটের প্রতি লির প্রতিশ্রুতি থেকেই বোঝা যায়, তিনি শত্রুদের থেকে আলাদা নন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় ডাকা আগাম নির্বাচনে জয়লাভের পর ৪ জুন ক্ষমতা নেন লি।
সামরিক আইন প্রয়োগের ব্যর্থ প্রচেষ্টার জন্য কট্টর রক্ষণশীল ইউন সুক ইওলকে অপসারণের পর আগাম নির্বাচন হয় দেশটিতে।
ক্ষমতায় বসার পরই উত্তর কোরিয়ার সাথে সম্পর্ক ভালো করার প্রতিশ্রুতি দেন লি। যা বছরের পর বছর ধরে সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
এছাড়া উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি সীমান্ত জুড়ে উত্তর-বিরোধী প্রচারণামূলক লাউডস্পিকার সম্প্রচার স্থগিত করেন এবং পিয়ংইয়ংকে ক্ষুব্ধ করে এমন কর্মীদের লিফলেট ওড়ানো নিষিদ্ধ করেন।
তবে, উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তা কিম বলেন, এই পদক্ষেপগুলো দক্ষিণ কোরিয়ার অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কার্যকলাপের বিপরীত, যা প্রথমেই শুরু করা উচিত হয়নি।
‘অন্য কথায়, এটি আমাদের মূল্যায়নের যোগ্যও নয়’ বলে জানান ইয়ো জং।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা আবারও সরকারী অবস্থান স্পষ্ট করছি যে, সিউলে যে নীতিই প্রতিষ্ঠিত হোক বা প্রস্তাবই করা হোক না কেন, আমরা তাতে আগ্রহী নই। আমরা দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে বসব না এবং আলোচনা করার মতো কিছুই নেই।’
এদিকে, মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কু বিয়ং-স্যাম এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়া তারপরও উত্তর কোরিয়ার সাথে পুনর্মিলন এবং সহযোগিতার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
দীর্ঘদিন থেকেই দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সূত্র: রয়টার্স



