
বলিভিয়ায় সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় অভিযুক্ত পাইলট ও কো-পাইলট গ্রেপ্তার
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি বলিভিয়ার এল আল্টো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে সামরিক কার্গো বিমান দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত হয়। সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমানটির ফিউজেলাজের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে বিমানবন্দরের বাইরে ব্যস্ত শহরে পড়লে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় বিমানের পাইলট ও কো-পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে ইনকোয়ারি ডটনেট এ তথ্য জানিয়েছে।
ইনকোয়ারি ডটনেটের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানটিতে ৬০ মিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ বলিভিয়ান মুদ্রা বোঝাই ছিল। দুর্ঘটনায় হাজার হাজার নোট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গিয়েছিল। শত শত স্থানীয় বাসিন্দা টাকা সংগ্রহ করতে দূর্ঘটনাকবলিত এলাকার কাছে জড়ো হয়। বড় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে জড়ো হওয়া লোকদের সরিয়ে দিতে উপস্থিত পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
বিমানটির ওই অর্থের চালান ছিল বলিভিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। পরে কর্তৃপক্ষ বিধ্বস্ত বিমান থেকে ছড়িয়ে পড়া নোটগুলো অবৈধ ঘোষণা করে।
প্রসিকিউটর ফ্যাভিও মালডোনাডো ইউনিটেল টিভি চ্যানেলকে জানিয়েছেন, গেল বৃহস্পতিবার পাইলট ও কো-পাইলটের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তারপরই শুক্রবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে।
সেই সঙ্গে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগে বিচারকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত জামিন স্থগিত থাকবে।
গেল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বলিভিয়ান বিমান বাহিনীর তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আট ক্রু সদস্য বহনকারী বিমানটি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। এ কারণে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টা করেন পাইলট। এসময় সামনের চাকার ওপর বা নোজ গিয়ারে ভর দিয়ে বিমানটি অবতরণ করার চেষ্টা করেন পাইলট। যার ফলে ব্রেক ঠিকমতো কাজ করেনি।
রানওয়ের একটি অংশ ভেজা থাকায় অবতরণের সময় বিমানের চাকা পিছলে যায়। এতেই দূর্ঘটনা ঘটে।
অবশ্য তদন্ত বোর্ডের প্রধান কর্নেল রিচার্ড আলারকন চলতি সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবী করেন, ‘এই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল।’



