
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ও বিভাজনের ছায়া
হোসনেআরা চৌধুরী,নিউইয়র্ক,জুন,২৯,২০২৬:
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী (Semiquincentennial) ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা, উৎসব আয়োজনের পাশাপাশি তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কও। একসময় এই ঐতিহাসিক দিনটি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হলেও এবারের আয়োজন ঘিরে দেখা দিয়েছে বিভক্ত দৃষ্টিভঙ্গি ও রাজনৈতিক মেরুকরণ।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের সরকারি আয়োজন “America250” কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উৎসবগুলো আয়োজন করা হলেও এর পাশাপাশি “Freedom 250” নামের একটি পৃথক উদ্যোগ রাজনৈতিক পরিচয়ের ছাপ স্পষ্ট করেছে বলে সমালোচকরা মনে করছেন। ফলে জাতীয় পর্যায়ের এই উদ্যাপন অনেক ক্ষেত্রে দলীয় রাজনীতির প্রভাবাধীন হয়ে পড়েছে বলে মত বিশ্লেষকদের।
ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে অনুষ্ঠিত “Great American State Fair” নামের বৃহৎ আয়োজনে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা, বিনোদন এবং প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। তবে এই অনুষ্ঠান ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশ এটিকে দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখলেও অন্যরা একে রাজনৈতিক বার্তা প্রদানের মঞ্চ হিসেবে সমালোচনা করেছেন।
ইতিহাসবিদ ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের ২৫০তম বার্ষিকী উদ্যাপনে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের কিছু অংশকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হলেও দাসপ্রথা, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বাস্তুচ্যুতি এবং নাগরিক অধিকার আন্দোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত হচ্ছে—যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তবে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও স্বাধীন সংগঠনগুলো চেষ্টা করছে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ইতিহাসের বহুমাত্রিক দিক তুলে ধরতে, যাতে উদ্যাপনটি শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জাতীয় স্মরণে পরিণত হয়।
সব বিতর্কের মাঝেও ৪ জুলাই, ২০২৬ ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরে প্যারেড, আতশবাজি এবং নৌবাহিনীর প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজনে ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উদ্যাপন করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বার্ষিকী শুধু একটি ঐতিহাসিক উদ্যাপন নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিভাজনের একটি প্রতিচ্ছবিও হয়ে উঠেছে।



