ভারত

মমতার বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ শুভেন্দুর

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে ঘিরে ফের প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের দুই শিবিরের সংঘাত। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দিষ্ট করে দেওয়া শর্ত অমান্য করে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল ক্যাথিড্রাল রোডে সভা করেছে বলে অভিযোগ তুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এই অভিযোগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও শুক্রবার জানান তিনি। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে হাইকোর্টে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার কলকাতায় পৃথক কর্মসূচি নেয় তৃণমূলের দুই শিবির। দলীয় বিভাজনের জেরে এ বার ঐতিহ্যবাহী ময়দান এলাকায় একই জায়গায় সভা করার অনুমতি দেয়নি আদালত। দুই পক্ষই ময়দান এলাকায় সভার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল।

২৫ আগস্ট বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলকে ক্যাথিড্রাল রোডে এবং ঋতব্রতপন্থী গোষ্ঠীকে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে কর্মসূচি করার অনুমতি দেওয়া হয়।আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, কোনও পক্ষের সভাতেই দেড় হাজারের বেশি মানুষ থাকতে পারবেন না। দুপুর ১২টা থেকে ৩টার মধ্যে কর্মসূচি শেষ করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি রাস্তার অন্তত একটি দিক চলাচলের জন্য খোলা রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

শুক্রবার ক্যাথিড্রাল রোডে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। সভাকে কেন্দ্র করে বিপুল মানুষের জমায়েত হয় বলে অভিযোগ। মমতা সভাস্থলে পৌঁছানোর পর ব্যারিকেড সরিয়ে বহু মানুষ সভার দিকে চলে আসেন বলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর জেরে রাস্তা কার্যত বন্ধ হয়ে যায় এবং যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এই পরিস্থিতিকেই আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশ কী ভাবে ভাঙা হয়েছে, তা সকলেই দেখেছেন। তার অভিযোগ, রাস্তা বন্ধ করে লোকজনকে সভাস্থলে ঢোকানো হয়েছে। এই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি হাইকোর্টে যাওয়ার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভা নিয়ে আগেই আদালত দুই পক্ষকে পৃথক জায়গায় কর্মসূচি করার নির্দেশ দিয়েছিল। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের ওই নির্দেশের লক্ষ্য ছিল দুই শিবিরের মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এখন আর শুধু দলীয় কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আদালতের নির্দেশ, প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্য দিয়েও সেই সংঘাত ক্রমেই প্রকাশ্যে আসছে। প্রতিষ্ঠাদিবসের কর্মসূচির পর মুখ্যমন্ত্রীর এফআইআরের নির্দেশ সেই সংঘাতকে আরও নতুন মাত্রা দিল।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension