
সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের মেইল ব্যালট বিধিনিষেধ আটকে গেল
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আপাতত আগের নিয়মেই মেইল ব্যালট
শাহ্ জে. চৌধুরী :
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মেইল ব্যালট ব্যবস্থায় নতুন বিধিনিষেধ কার্যকরের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টা আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যগুলো আপাতত বিদ্যমান নিয়মেই ভোটারদের কাছে মেইল ব্যালট পাঠাতে পারবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থায় মেইল ব্যালটের খাম, বারকোড এবং ভোটারদের তথ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নতুন ফেডারেল মানদণ্ড চালুর কথা ছিল। প্রস্তাবিত নিয়ম না মানলে ডাকযোগে ব্যালট গ্রহণে বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনাও ছিল।
প্রশাসনের যুক্তি ছিল, নতুন ব্যবস্থা নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং সম্ভাব্য অনিয়ম শনাক্ত করতে সহায়তা করবে। তবে বিভিন্ন রাজ্য ও ভোটাধিকার সংগঠন এর বিরোধিতা করে বলে, নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে নতুন নিয়ম চালু হলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে এবং বৈধ ভোটাধিকার প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের আবেদন গ্রহণ না করে নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মনে করেন, এই পর্যায়ে নতুন নিয়ম জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর করার যথেষ্ট কারণ নেই। তবে বিচারপতিদের মধ্যে এ বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে।
নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকান ভোটারদের জন্যও এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কর্মব্যস্ততা, ভ্রমণ, শারীরিক সীমাবদ্ধতা কিংবা অন্যান্য কারণে যারা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ওপর নির্ভর করেন, তাদের জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থা বহাল থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মার্কিন নির্বাচনে ফেডারেল সরকারের ক্ষমতা বনাম রাজ্যগুলোর সাংবিধানিক কর্তৃত্ব নিয়ে চলমান বিতর্ক আরও জোরালো হলো। একই সঙ্গে ভোটাধিকার, নির্বাচনী নিরাপত্তা এবং মেইল ভোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিলেছে।
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে আপাতত মেইল ব্যালট ব্যবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে না। রাজ্যগুলো তাদের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে।



