
নিউ ইয়র্কযুক্তরাষ্ট্র
নতুন অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটির মামলা
মামদানির নেতৃত্বে আইনি চ্যালেঞ্জ—স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও আবাসন সহায়তা নিয়ে উদ্বেগ
হোসনেআরা চৌধুরী :
নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলে কিছু অভিবাসীর বৈধ অভিবাসন মর্যাদা পাওয়া বা ধরে রাখা কঠিন হয়ে যেতে পারে—ট্রাম্প প্রশাসনের এমন একটি নতুন নীতির বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে নিউইয়র্ক সিটি। মেয়র জোহরান মামদানি এবং ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন কয়েকটি সিটি ও কাউন্টি এই আইনি চ্যালেঞ্জে যুক্ত হয়েছে।
নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিটি ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এর আওতায় গ্রিন কার্ড ও ভিসার আবেদন বিবেচনার সময় কোনো অভিবাসী বর্তমানে বা ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন কি না—তা আরও বিস্তৃতভাবে বিবেচনা করার সুযোগ পাবেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা ও আবাসন কর্মসূচিও এর আওতায় আসতে পারে।
নিউইয়র্ক সিটির কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, নতুন নীতির কারণে বৈধভাবে সুবিধা পাওয়ার অধিকার থাকা সত্ত্বেও অনেক অভিবাসী পরিবার সরকারি সহায়তা নিতে ভয় পেতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে মিশ্র-অভিবাসন মর্যাদার পরিবারগুলোর ওপরও, যেখানে একই পরিবারের কেউ নাগরিক এবং অন্য কেউ অভিবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।
মেয়র মামদানি বলেছেন, এই নীতি নিউইয়র্কবাসীর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
নিউইয়র্কের বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্যও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বহু অভিবাসী পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাপন ও অভিবাসন প্রক্রিয়ার নানা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা এবং অন্যান্য সামাজিক কর্মসূচির ওপর নির্ভর করে। নতুন নীতির কারণে এসব সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে ভীতি তৈরি হলে তার প্রভাব পুরো পরিবারে পড়তে পারে।
বিশেষ করে মিশ্র-স্ট্যাটাস পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিবারের একজন সদস্য সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলে অন্য সদস্যের অভিবাসন আবেদনে তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না—এ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য নীতিটির পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা দেওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন কি না, তা বিবেচনার সুযোগ থাকা উচিত।
নতুন নীতিকে ঘিরে আইনি লড়াই নিউইয়র্ক ও ফেডারেল সরকারের মধ্যে অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করেছে। নীতিটি কার্যকর হওয়ার আগেই আদালতের সিদ্ধান্ত এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নিউইয়র্কের অভিবাসী কমিউনিটির সামনে এখন মূল প্রশ্ন—স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য বা আবাসন সহায়তা নেওয়া কি ভবিষ্যতে অভিবাসন আবেদনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করবে? এই প্রশ্নের উত্তর হাজারো অভিবাসী পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



