
ভোট চুরির অভিযোগ স্বীকার করেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি?
ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় অনিয়ম ও কথিত ভোট চুরির অভিযোগ নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে বৈঠক করেছে বিরোধীদের জোট ‘ইন্ডিয়া’। বৈঠক শেষে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ শুনে রাষ্ট্রপতি তা অস্বীকার করেননি। বরং তিনি এ বিষয়ে প্রমাণ চেয়েছেন। রাষ্ট্রপতির এমন অবস্থানে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন রাহুল। খবর এনডিটিভির
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে কীভাবে চুরি করা হয়েছে, তার সব প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। গোটা দেশ তা দেখেছে।’
তবে রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এদিকে রাষ্ট্রপতি ভবন সূত্র রাহুলের বক্তব্যকে ভুল বলে দাবি করেছে। সূত্রের বক্তব্য, ‘এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে বিতর্কের মধ্যে টেনে আনা দুর্ভাগ্যজনক।’
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পর রাহুল গান্ধী জানান, আগামী সোমবার ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করতে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন বিরোধী নেতারা। সেখানে তারা প্রধান বিচারপতির হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেবেন।
এর আগে রাহুলের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য ও নেতারা সংসদ ভবন থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনের উদ্দেশে মিছিল করেন। পরে তাদের একটি ছোট প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানায়।
রাষ্ট্রপতির কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে চারটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন বিরোধীরা।
১. প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ২০২৩ সালের সেই আইন বাতিল, যে আইনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের আজীবন দায়মুক্তির সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ।
২. ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) অবিলম্বে স্থগিত করা এবং তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম পুনর্বহাল করা।
৩. সব নির্বাচনে কাগজের ব্যালট ফিরিয়ে আনা।
৪. গত দুই বছরে যেসব বিধানসভা নির্বাচনে ভোট চুরির অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে বিরোধীরা দাবি করছেন, সেসব নির্বাচন বাতিল করা।
‘জ্ঞানেশ, তোমার খেলা শেষ!’
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে শেষ পর্যন্ত ১০ জন বিরোধী নেতা অংশ নেন। অন্য নেতারা রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে কর্তব্যপথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় তাদের হাতে ছিল ‘জ্ঞানেশ, তোমার খেলা শেষ!’ লেখা প্ল্যাকার্ড। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের মধ্যে যোগসাজশ রয়েছে এবং ভোট চুরি হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে স্লোগান দেন তারা।
বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। তাই নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপতি ভবনকে রাজনীতিতে টানার অভিযোগ বিজেপির
বিরোধীদের এই কর্মসূচির সমালোচনা করেছে বিজেপি। দলটির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী অভিযোগ করেন, কংগ্রেস রাষ্ট্রপতির দপ্তরকে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে টেনে এনেছে।
তিনি বলেন, ‘এটা একেবারেই স্পষ্ট যে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া এবং তা থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলাই কংগ্রেসের একমাত্র উদ্দেশ্য। আজ রাষ্ট্রপতি ভবনের বাইরে তারা যা করেছে, তাতে এই সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে।’
অর্থাৎ, নির্বাচনী ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিরোধীদের আন্দোলনকে বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছে। অন্যদিকে, বিরোধীরা বলছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই তারা এই কর্মসূচি পালন করছে।



