ভারত

সবাইকে নিয়ে পথ চলার অঙ্গীকার TMCP-র নতুন সভাপতির

রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি পদে তাঁর অভিষেকের খবর ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে দলের অন্দরে৷ সম্প্রতি তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়ে দেন টিএমসিপির পরবর্তী সভাপতি হিসেবে তৃণাঙ্কুরের নাম৷ একই সঙ্গে তিনি এও জানান, সহসভাপতি হিসেবে তৃণাঙ্কুরের পাশে থাকবে মণিশঙ্কর পাল ও রুমানা আখতার৷

কিন্তু এই খবরের পর এখনও পর্যন্ত দলীয় ভবনে এসে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করা তো দূর, সভাপতি হিসেবে তেমনভাবে কাজ শুরুই করতে পারেনি টিএমসিপির এই নতুন সভাপতি৷ তৃণাঙ্কুরকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সে জানিয়েছে, ‘‘প্রথমত আমার বাবা অসুস্থ৷ বাবাকে নিয়ে কিছুদিন খুব ব্যস্ততার মধ্যেই কাটছে৷ দ্বিতীয়ত, আমি সেভাবে এই কাজে অভ্যস্থ নই৷ তবে আগামী সপ্তাহেই তৃণমূল ভবনে গিয়ে সবার সঙ্গে দেখা করব৷ এখন শুধুই ফোন মারফত শুভেচ্ছা বার্তার পালা চলছে৷’’সভাপতি হিসেবে প্রথম কাজ কি হবে তৃণাঙ্কুরের? তার জবাব, ‘‘দল যেভাবে গাইড করবে সেভাবেই চলব৷ সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে চলার চেষ্টা করব৷’’

প্রায় তিন মাসের বেশি সময় ধরে টিএমসিপির সভাপতির আসনটি ফাকা ছিল৷ দীর্ঘ জল্পনার পর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে সভাপতি হিসেবে তৃণাঙ্কুরের নাম৷ অনেক কষ্টে টিএমসিপির এই সভাপতি নির্বাচনের কাজটি সেরেছে শীর্ষ নেতৃত্ব৷ তার আগে বহুবার দলীয় আলোচনায় সভাপতির নাম নির্বাচন করেও ভেস্তে গিয়েছে বিষয়টি৷ এমনকি সভাপতি নির্বাচনের জন্য তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে মাথায় রেখে প্রাক্তন সভাপতিদের নিয়ে এক কমিটি গড়ে দেন৷ পরে এই কমিটি মিটিং করে আবার একটি অ্যাডভাইসরি কমিটি গঠন করে৷ যার চেয়ারম্যান হন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, কো-চেয়ারম্যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এরপর এই কমিটিই চূড়ান্ত করে তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের নাম৷

তিনমাস যাবৎ সভাপতির আসন ফাকা থাকার ফলে স্বভাবতই দলীয় স্তরে কোনও বার্তা পৌঁছোয়নি টিএমসিপি নেতাদের কাছে৷ আবার নতুন সভাপতি তৃণাঙ্কুরের তরফেও কোনও বার্তা যায়নি নেতা-নেত্রীদের কাছে৷ তৃণাঙ্কুরের বক্তব্য, ‘‘শীর্ষ নেতৃত্ব যা সিদ্ধান্ত নেবে তা শীরধার্য৷ যা বার্তা দেওয়ার তারাই দেবেন৷ আমি শুধুমাত্র বার্তাবহর কাজ করব৷ এছাড়াও যেই দুজন সহসভাপতি হয়েছেন, তাদের মধ্যে একজনের পরীক্ষা চলছে৷ রুমানার পরীক্ষা শেষ হলেই আমরা তৃণমূল ভবনে একসঙ্গে বসব৷ এবং সপ্তাহে অন্তত একদিন করে ভবনে বসার চেষ্টা করব৷’’

প্রশ্ন উঠছে সভাপতির পদ পেয়েও কেন শীর্ষ নেতৃত্বের হাতের পুতুল হয়ে থাকতে চাইছেন তৃণাঙ্কুর? তবে কি প্রাক্তন সভানেত্রী জয়ার স্মৃতি তাকে ভয় ধরাচ্ছে? কারণ শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমতি না নিয়ে কলেজগুলির সঙ্গে ভবনে মিটিং করে রোষের মুখে পড়েছিলেন জয়া৷ সেই ভয়েই কি তৃণাঙ্কুর শীর্ষ নেতৃত্বকেই সব কাজে এগিয়ে দিতে চাইছেন? এ প্রশ্নের উত্তরে তৃণাঙ্কুরের জবাব, ‘‘এরকম কোনও বিষয় নেই৷ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যেমন অভিষেক দা, সুব্রত বক্সির আমি স্নেহভাজন৷ তাই রাজনীতির গুরুজনদের আমি মেনে চলব এই অঙ্গীকার নিয়েই চলব৷’’

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension