
যৌন হেনস্তায় অভিযুক্ত মোদীর মন্ত্রী এম জে আকবর
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: দেশজুড়ে যৌন হেনস্তার বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন একের পর এক মহিলা৷ অভিযুক্তের তালিকায় নাম উঠছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের৷ এবার সেখানে সংযোজিত হল নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের নাম৷
তাঁর নাম এম জে আকবর৷ বিদেশ দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী৷ বর্ষীয়ান সাংবাদিক৷ তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশজুড়ে৷
সোমবার সন্ধ্যায় তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ ওঠে৷ প্রিয়া রামানি নামে এক সাংবাদিক ট্যুইট করে এই অভিযোগ সামনে আনেন৷ এর পরই আকবরের বিরুদ্ধে একাধিক সাংবাদিক ট্যুইটারে সরব হন৷
প্রিয়া ট্যুইটে আকবরের নাম লিখেছেন৷ কিন্তু একটি লেখার লিঙ্ক শেয়ার করেছেন ওই ট্যুইটে, সেখানে অবশ্য কারও নাম নেই৷ শুধু একজন নামহীন সম্পাদকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে৷
ভোগ ইন্ডিয়ার গত বছর অক্টোবরের সংখ্যায় প্রিয়া লিখেছিলেন, একজন সম্পাদক তাঁকে ইন্টারভিউয়ের জন্য মুম্বইয়ের একটি হোটেলে ডাকেন৷ ঘটনার সময় তাঁর বয়স ২৩৷ আর ওই সম্পাদক তখন ৪৩৷ হোটেলের ঘরে তাঁকে ডাকা হয়৷ মদ্যপান করতে বলা হয়৷ তিনি তা অস্বীকার করেন৷
এর পর ওই সম্পাদক ভদকার গ্লাস নিয়ে হিন্দি গান গুনগুন করতে শুরু করেন৷ তার পর আচমকাই তাঁকে কাছে এসে বসার নির্দেশ দেন ওই সম্পাদক৷
সেই সময় কারও নাম না লিখলেও প্রিয়ার সোমবারের ট্যুইট থেকে পরিষ্কার তিনি এম জে আকবরের কথাই বলতে চেয়েছেন৷ ওই ট্যুইটের পরই আরও তিন এম জে আকবরের বিরুদ্ধে সরব হন৷ প্রেরণা সিং বৃন্দা, সুজাতা আনন্দম, সুষমা রাহা-সহ একাধিক মহিলা সরব হন৷
নয়ের দশকে আকবরের সঙ্গে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের অনেকে অবশ্য আবার জানিয়েছেন, এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়নি কখনও৷ তবে কারও কারও বক্তব্য, ‘‘ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের এমন স্বভাব থাকে৷’’
একটি ইংরেজি পোর্টালকে এক মহিলা সাংবাদিক জানিয়েছেন, তিনি নয়ের দশকে আকবরের সঙ্গে কাজ করেছেন৷ যে অফিসে তিনি কাজ করতেন, সেখানে অবশ্য পুরুষদের তুলনায় কমবয়সী মেয়েদের বেশি কাজে নেওয়া হত৷ সেই কারণে ওই অফিসকে ‘আকবরের হারেম’ বলে উল্লেখ করা হত৷
এই বিষয়টি সামনে আসতেই দেশজুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছে৷ মঙ্গলবার সকালে তাঁর মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন স্বয়ং বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ৷ তিনি অবশ্য এ নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি৷



