
আমেরিকান কংগ্রেসে দুই মুসলিম নারীর উত্থানের গল্প
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: এবার প্রথমবারের মত আমেরিকান কংগ্রেসে দুজন মুসলিম নারী বিজয়ী হয়েছেন। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাশিদা তালিব আর সোমালি বংশোদ্ভূত ইলহান ওমর। তারা দুজনেই ডেমোক্রেট। ৬ নভেম্বরের ভোটে মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত হন ইলহান ওমর। অপরদিকে মিশিগানের ভোটাররাও রাশিদা তালিবকে নির্বাচিত করেন।
নির্বাচিত এই দুই নারী ডেমোক্রেট প্রার্থীর জীবনের গল্পে বেশ মিল রয়েছে। দুজনার পরিবারই শরণার্থী হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। তার ধীরে ধীরে তারা নিজেদের যোগ্যতায় আজকের অবস্থানে এসেছেন।

গৃহযুদ্ধর সময় আট বছর বয়সে ওমর তার পরিবারের সঙ্গে সোমালিয়া থেকে পালিয়ে কেনিয়ায় চলে গিয়েছিলেন। তারপর কেনিয়ার ক্যাম্পেই তার জীবনের চারটি বছর কেটে যায়। ওমরের বয়স যখন বারো বছর তখন তার পরিবার আমেরিকার মিনসোটায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করে।
এক সাক্ষাৎকারে ওমর বলছিলেন, বারো বছর বয়সে তিনি যখন সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে আমেরিকায় আসেন তখনই রাজনীতির প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। আর ওমরের এই আগ্রহটা তৈরি হয়েছিল তার দাদার কারণে। তার দাদাও ডেমোক্রেটিক মতবাদে বিশ্বাস করতেন।

ওমর আফ্রিকান-আমেরিকান সিভিল গ্রুপসহ মানবাধিকার ও শ্রমিকের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে নানা কর্মকান্ডে যুক্ত হয়েছিলেন। ২০১৬ সালে,যখন ওমরের বয়স সাইত্রিশ তখন ওমর প্রথম সোমালি-আমেরিকান হিসাবে মিনসোটার আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন এবং ইতিহাস রচনা করেন।
অন্যদিকে বিয়াল্লিশ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাশিদা তালিবও ওমরের মতই প্রগতিশীল রাজনীতিসহ মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকার বিষয়ক নানা কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৮ সালে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে মিশিগানের আইন পরিষদের সদস্য হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছিলেন রাশিদা।

এক সাক্ষাৎকারে রাশিদা নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ নিয়ে বলেছেন, যে সব মুসলিম ভাইবোনেরা অন্যায়, অবিচারের শিকার হয়ে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছেন তাদের জন্য আমি লড়াই করছি।

নির্বাচনে বিজয় প্রসঙ্গে রাশিদা বলেন, ‘আমরা যখন এটাকে অসম্ভব ভাবতে শুরু করেছিলাম ঠিক সে সময়ই আমরা ইতিহাসটাকে বদলে দিলাম। আর আপনি যখন বিশ্বাস করবেন এবং আমার মতো কাউকে বিশ্বাস করবেন তখন এটা সম্ভব’।



