ভারত

পিসি-ভাইপোর মোকাবিলায় বাপ-ব্যাটাকে শান দিচ্ছে কংগ্রেস

রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রর ছেলে রোহন মিত্র এবার যুব কংগ্রেসের সভাপতি পদের প্রার্থী৷ ভোটে লড়াইয়ে সোমেন-পুত্রের জয় অনেকেই নিশ্চিত বলে মনে করছেন৷ তাহলে কী আগামী দিনে রাজ্যে কংগ্রেসের রাশ বাপ-ছেলের হাতেই থাকবে?

দলের অন্দরেই এমন প্রশ্ন উঠছে৷ তবে রোহন যদি যেতেন তবে একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে৷ পিসি-ভাইপোর মোকাবিলায় জোড়া ফলা হয়ে দেখা দেবে বাপ-ব্যাটা৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (পিসি) এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ভাইপো) অবশ্য আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে পাশে চাইছেন কিনা তা স্পষ্ঠ নয়৷ বুধবার, সোনিয়া গান্ধীর প্রচার সচিব আহমেদ প্যাটেল কথা বলেছেন মমতার সঙ্গে৷

রোহনের রাজনৈতিক কেরিয়ার খুব বেশি দিনের নয়৷ তবে এই কেরিয়ারে তাঁর দুটো ইতিবাচক দিক রয়েছে৷ এক, রাজনীতি নিয়ে পড়াশোনা। দুই, রাজনীতির পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা। ইংল্যান্ডের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি নিয়ে স্নাতকোত্তর করেছেন রোহন।

বিশিষ্ট শিল্পপতি লক্ষ্মী মিত্তলের সংস্থায় বছর পাঁচেক চাকরিও করেছেন। কলকাতায় ফিরেছিলেন ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে৷ ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন সোমেন মিত্র৷ তারপর থেকে বাবার পাশে ছিলেন রোহন৷

২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে উত্তর কলকাতার কংগ্রেস প্রার্থী সোমেন মিত্রের হয়ে কয়েকটি প্রচারেও দেখা গিয়েছিল রোহনকে। বক্তৃতাও করেছিলেন। কিন্তু তা শুধু পিতার হয়ে পুত্রের প্রচার।এরপর সোমেন মিত্র কংগ্রেসে ফেরার পর রোহনও যুব কংগ্রেসে নাম লেখান৷ সম্পাদক, সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করার পর এবার সভাপতি হওয়ার দৌড়ে লড়াই৷

ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে যুবর নির্বাচন৷ রোহণের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী সাদফ খান৷ তবে প্রদেশ সভাপতি সোমেন মিত্রর ছেলে হওয়ায় এই লড়াইয়ে রোহনের যে বাড়তি অ্যাডভান্টেজ রয়েছে সেটা অস্বীকার করার জায়গা নেই৷ তবে প্রদেশ নেতৃত্বের একাংশের মতে, রোহনের মধ্যে শেখার আগ্রহ আছে।

যদিও আগাগোড়া সোমেন মিত্র বলে থাকেন, “রোহন আমার ছেলে হওয়ায় বাড়তি কোনও সুবিধা পাবে না। ও যদি নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে জায়গা করে নিতে পারে, করবে।”

যুবর সভাপতি পদে প্রার্থী রোহনের বক্তব্য, আমি সাড়ে তিন বছর ধরে যুব কংগ্রেস করছি৷ গত একবছর যুবর সহ সভাপতি ছিলাম৷ এই কদিনে অনেক অভিজ্ঞতা না হলেও অনেক কিছুই শিখেছি৷ যদি সভাপতি হই তাহলে চেষ্টা করব যুব সংগঠনকে শক্তিশালী করতে৷ বাবা প্রদেশ সভাপতি হওয়ায় কী কাজ করতে বেশি সুবিধা হবে? রোহণের সাফ জবাব, “সোমেন মিত্র প্রদেশ সভাপতি হওয়ার আগেই আমি যুবর সভাপতি পদে লড়ার প্রস্তুতি নিয়েছি৷ তখন জানতাম না বাবা প্রদেশ সভাপতি হবেন৷ তবে আমি যুবর সভাপতি হলে দলটা একই পথে চলবে৷”

এদিকে রোহন যুবর সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়া নিয়ে দলের কেউ কেউ খোঁচা দিয়ে বলছেন, দলটা কী তাহলে এবার বাবা-ছেলে মিলে চালাবে? সোমেন তনয় অবশ্য এসব কথাকে গুরুত্ব দিতে চান না৷ তাঁর কথায়, “রাজনীতিতে সবাই শুধু আমার নামে ভাল কথা বলবে এমন প্রত্যাশা করিনা৷ ভাল-খারাপ মিলিয়েই রাজনীতি৷ সেটা জেনেই এসেছি৷ আর আমার ক্ষমতা নেই কারোর মুখ বন্ধ করার৷ আমি শুধু আমার কাজটা ঠিকঠাক করে যেতে চাই৷ আমরা সবাইকে নিয়েই চলতে চাই৷”

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension