
আওয়ামী লীগ-বিএনপির অর্ধশতাধিক চিকিৎসক প্রার্থী
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মিলিয়ে ৫১ জন চিকিৎসক সংসদ সদস্য হতে চাইছেন। তাদের সবাই দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। মনোনয়ন দৌড়ে তাদের অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মত। প্রত্যেকেই যে যার অবস্থান থেকে মনোনয়ন পেতে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।
নির্বাচনের নতুন ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলবে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইসি কর্তৃক ঘোষিত যোগ্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন। আর এর পরদিন ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
মনোনয়ন দৌড়ে আওয়ামী লীগের ৩৬ চিকিৎসক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত প্রার্থী হতে চান কুমিল্লা-৭ আসন থেকে। বেশ আগেই তিনি সেটা জানান দিয়েছিলেন। আরেক সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান খান মনোনয়নপত্র কিনেছেন টাঙ্গাইল-৩ আসনের।
অধ্যাপক কামরুল হাসান খান জানালেন এলাকায় তার ইমেজ যথেষ্ট ভালো। দলীয় মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে জয়ী হতে পারবেন হলে।
বিএসএমএমইউর উপ-উপাচার্য গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক শহীদুল্লাহ সিকদার গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)-এর সভাপতি অধ্যাপক এম ইকবাল আর্সলান রাজবাড়ি-২ আসন থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ইকবাল আর্সলান জানান, দলীয় মতের ভিত্তিতে নির্বাচন করে জয়ী হলে এলাকা সন্ত্রাস-মাদকমুক্ত হিসেবে গড়ে তুলবেন। পাশাপাশি এলাকার প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা, যাদের অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের প্রতি যথার্থ সম্মান দেখানোর চেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন।
স্বাচিপ মহাসচিব ডা. এম এ আজিজ ময়মনসিংহ-৪, নবম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য মুরাদ হাসান জামালপুর-৪, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)-এর সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ঢাকা-৭ (তিনি এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য), স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক দীন মোহাম্মদ নুরুল হক কিশোরগঞ্জ-২, আওয়ামী লীগের সাবেক স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু মুন্সিগঞ্জ-১, বাংলাদশ আওয়ামী যুবলীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম টাঙ্গাইল-৮, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি চাঁদপুর-৩, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আ ফ ম রুহুল হক সাতক্ষীরা-৩, আমজাদ হোসেন দিনাজপুর-৪ আসন থেকে মনোনয়ন পত্র কিনেছেন।
এ ছাড়াও আওয়ামীপন্থী চিকিৎসকদের মধ্যে অধ্যাপক মো. আমজাদ হোসেন, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থেকে অধ্যাপক জামাল উদ্দিন চৌধুরী, এমএ আউয়াল, আশরাফুল আমীন, ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, হামিদুল হক, দিলীপ, ইউনুস আলী সরকার, চৌধুরী মো. আনোয়ার, রেজওয়ানুল হক, আব্দুর রউফ সরদার, আবু জাফর চৌধুরী, হাবিবে মিল্লাত, মোজাম্মেল হক, আইভি রহমান, খালেদ শওকত, শফিকুর রহমান, মোস্তফা আলম, স্বাচিপের সহ-সভাপতি এমএ রউফ সরদার, রুস্তম আলী ফরাজী, সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন এবং পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এম নজরুল ইসলামও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপত্র কিনেছেন।
মনোনয়নের এই দৌড়ে নবীন চিকিৎসকও রয়েছেন। ঢাকা শিশু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার রেজাউল করিম তুষার, মনোনয়নপত্র নিয়েছেন ময়মনসিংহ-৮ আসন থেকে। ।
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী অধ্যাপক জামাল উদ্দিন চৌধুরী জানান, তার এলাকায় আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা আতংকে ঘরছাড়া, তাদের মূল্যায়ন করা হয় না। তিনি তাদের যথার্থ মূল্যায়ন করবেন। এছাড়া সন্ত্রাস-মাদক দূর করার পাশপাশি শিক্ষা-চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করবেন। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আধুনিক সন্দ্বীপ গড়তে সব ধরনের কাজ করার আন্তরিক চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে জানালেন।
বিএনপির ১৫ চিকিৎসক
বিএনপি থেকে ১৫ চিকিৎসক মনোনয়ন কিনেছেন বলে এখন পর্যন্ত জানা গেছে। ময়মনসিংহ-৪ আসনের দলীয় মনোনয়নপত্র কিনেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর মহাসচিব এজেডএম জাহিদ হোসেন। বিএনপির আরেক ভাইস চেয়ারম্যন ফরহাদ হালিম ডোনার ঢাকা ১৭ আসন, চট্টগ্রাম-৫ আসন (হাটহাজারী) থেকে বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ফওয়াজ হোসাইন শুভ।
ফওয়াজ জানান, এবারের নির্বাচন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তির জন্য আন্দোলনের একটা অংশ। তারা জয়ী হলে খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবেন। দল তাকে মনোনয়ন না দিলেও যাকে মনোনয়ন দেবে, তার জন্যই কাজ করবেন।
বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক, বর্তমানে কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ও বিভিন্ন সময়ে পেশাজীবী সংগঠনের সাথে যুক্ত ডা. মাজহারুল ইসলাম দোলন মনোনয়নপত্র কিনেছেন নোয়াখালী-৩ আসন থেকে। এবারই প্রথম তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। সৌদি আরব বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজি মোশারেফ হোসেনের সন্তান মাজহারুল ইসলাম দোলন বলেন, তিনি ২০০৮ সালেই নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকারি চাকরি সংক্রান্ত নিয়মের কারণে করতে পারেন নি।
১৯৮৩ সালে তৎকালীন ঢাকা ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রদলের কমিটিতে নাম লেখানোর মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন দোলন। তিনি জানান, তিনি বছর জুড়েই এলাকায় সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে নিয়োজিত থাকেন।
চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন, চট্টগ্রাম ১৪ আসন বিএনপির পরিবার কল্যাণ সম্পাদক মহসিন জিল্লুর করিম, পিরোজপুর ২ থেকে পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সহ-সম্পাদক মো. রফিকুল কবির লাবু, গাজীপুর-৩ থেকে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সহ-সম্পাদক অধ্যাপক এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-২ থেকে বিএনপির কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও ড্যাবের সহ-সভাপতি ডা. মাজহারুল আলম, ময়মনসিংহ-৭ থেকে বিএনপির কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটন, বরিশাল-৬ থেকে বিএনপির আরেক কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য শহিদ হাসান মনোনয়ন চান।
সিলেটে শাখাওয়াত হোসেন জীবন, ময়মনসিংহে মোফাখ্খারুল ইসলাম রানা, বান্দরবানে সারোয়ার, চট্টগ্রামে শাহাদাৎ বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী।



