
পিছিয়ে পড়ছে বিএনপি
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: প্রতিটি আসনে কে ধানের শীষের আসল প্রার্থী, কে বিকল্প প্রার্থী তা নিয়ে ধূম্রজাল ও রহস্য থাকায় নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ থেকে পিছিয়ে পড়ছে বিএনপি। এমনটাই মনে করেন নির্বাচনি লড়াইয়ে নামার আশায় অপেক্ষমান বিএনপির প্রার্থীরা। বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর আলাপে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামার আশায় অপেক্ষমান প্রার্থীদের বক্তব্য- ঢালাওভাবে বেশিরভাগ আসনে একাধিক বিকল্প প্রার্থী ঘোষণা না দিয়ে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আগে থেকেই সমন্বয় করে প্রার্থী নির্দিষ্ট করে দিলে লাভবান হত বিএনপি।
গেল ২৫ নভেম্বর বিএনপি ধানের শীষে দলের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয়। কিন্তু দেখা যায় প্রায় প্রতিটি আসনেই দলটি দুই বা ততোধিক প্রার্থীকে মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে। আর এতে করে কে দলের প্রকৃত নমিনি সে বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ায় দলটির কোনও মনোনয়ন প্রত্যাশীই যার যার নির্বাচনী আসনে গণসংযোগে নামতে পারছেন না। অপরদিকে তিনশ আসনের মধ্যে মহাজোটকে ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাব্য ৫০/৬০টি আসন ছাড়া বাকি আসনগুলোতে প্রার্থী নির্দিষ্ট করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সে কারণে শেষ পর্যন্ত কে চূড়ান্ত দলীয় প্রার্থী হচ্ছেন, এমন অনিশ্চয়তা না থাকায় নির্বাচনী মাঠে প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগ। ফলে ভোটের মাঠে একটি অসম পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বিএনপি। এ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মাঝেও রয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, দলীয় কৌশল হিসেবেই বিএনপিকে এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। কারণ কোনও কারসাজিতে বিনাভোটের সরকারের নির্দেশে মনোনয়ন বাতিল অথবা মিথ্যা রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার হতে পারেন আমাদের দলীয় প্রার্থীরা। যার কারণে একাধিক বিকল্প প্রার্থী রাখতে হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সে আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে। আজকে মনোনয়নপত্র বাতিলের মধ্যদিয়ে সরকারের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। বিএনপির প্রার্থীদের ঘিরে সরকারের যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, দূরভিসন্ধিমূলক এবং মাস্টার প্ল্যান ছিল, সে আশঙ্কাও আমাদের ছিল।
রিজভী বলেন, নির্বাচন বানচালের জন্য সরকার দেশব্যাপী ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনের পরিবেশ আরও খারাপ হয়েছে। নৌকার পক্ষে হালে পানি না পেয়ে বিএনপিসহ বিরোধী দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও নেতাকর্মীদের ভিটে-মাটিতে ঘুঘু চড়াতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, নানা মামলার পাশাপাশি কারসাজিতে দলীয় প্রার্থীর নির্বাচন আটকে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় প্রায় প্রতিটি নির্বাচনি এলাকাতেই একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।
কৌশলগত কারণে এ মনোনয়ন যৌক্তিক মনে হলেও এ নিয়ে দলের মধ্যে শুরু হয়েছে সংশয় সন্দেহ। চূড়ান্তভাবে কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তা নিয়ে সৃষ্ট সংশয় ও সন্দেহ থেকেই কেউ মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের সংগঠিত করা কিংবা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে যান নি। বেশিরভাগ প্রার্থীই মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন প্রতিনিধি পাঠিয়ে।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতি) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির মনোনয়ন চিঠি পেয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা বেনজির আহমেদ টিটো। আজ রোববার তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হওয়ার পর নিজের নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগ থেকে তিনি জানান, ২৫ তারিখ (নভেম্বর) নমিনি হিসেবে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চিঠি হাতে পেয়েছি।
আজকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়ন বৈধ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। টিটো বলেন, আমার নির্বাচনী আসনে আমি ছাড়াও লুৎফর রহমান মতিন, ইঞ্জিনিয়ার আবদুল হালিম, শুক্কুর মাহমুদ ধানের শীষে মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন। এখন আমাদের মধ্য থেকে কাকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেবে, আমরা তা নিশ্চত না হওয়ায় সত্যিকার অর্থে কেউ জোরালোভাবে জনসংযোগ করতে পারছি না। সেদিক থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর চেয়ে আমরা প্রচার প্রচারণায় কিছুটা হলেও তো পিছিয়ে পড়ছি।
বরিশাল-২ আসনে ধানের শীষে মনোনয়ন চিঠি দেয়া হয়েছে ৩ জনকে। এদের মধ্যে সংস্কারপন্থি নেতা শহীদুল হক জামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু দলীয় মনোনয়ন দাখিল করেছেন যার যার প্রতিনিধি দিয়ে। অপরদিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল মনোনয়নপত্র দাখিলই করেন নি। শহীদুল হক জামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু এখনও নির্বাচনি এলাকায় যাননি।
ভোলা-৪ আসনের মনোনয়ন পেয়েছেন নাজিম উদ্দিন আলম ও যুবদল নেতা নূরুল ইসলাম নয়ন। দুজনেই মনোনয়নপত্র দাখিল করে এলাকায় গেলেও নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক কিছুই করেন নি। অথচ ওই এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। কর্মীসভা করছেন। কর্মীদের সংগঠিত করছেন।
বিএনপির নূরুল ইসলাম নয়ন জানান, নির্বাচনী এলাকার দুটি থানা মনপুরা ও চরফ্যাশনে গিয়ে গণসংযোগ করেছি। কর্মীসভা কিংবা কেন্দ্রে কেন্দ্রে প্রস্তুতিমূলক কিছু করা হয় নি। কারণ কে মনোনয়ন পাবেন তা এখনও চূড়ান্ত নয়। আমি মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করব। না পেলে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে কাজ করব।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম জানান, প্রার্থীতা চূড়ান্ত না হওয়ায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা কিছুটা হলেও পিছিয়ে পড়ছেন। তিনি বলেন, বাছাইকালে আমাদের প্রার্থীদের অনেকের মনোনয়ন বাতিল করা হতে পারে এ আশঙ্কা থেকেই বিকল্প প্রার্থীর বিষয়ে দলের এ সিদ্ধান্ত। এরপরও চড়াই উৎরাই বাধা-বিপত্তি পার করেও বিএনপি জনগণের কাছে পৌছে বিজয় অর্জন করবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখি।



