প্রধান খবরবাংলাদেশ

বিএনপি নেতা মোশাররফের ফোনালাপে আইএসআই আবারও সামনে

রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট:  জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) এক কর্মকর্তার ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে।

ফোনালাপে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে জয়ী করতে আইএসআইয়ের কাছে মোশাররফকে সাহায্য চাইতে শোনা গেছে। এ নিয়ে এখন দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর আলোচনা। বিএনপির পক্ষ থেকে এই ফোনালাপকে বানোয়াট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পাকিস্তানের গোপন হস্তক্ষেপ এবং বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা নতুন নয়। এর আগেও ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের নারী কূটনীতিক ফারিনা আরশাদ ও সহকারী ভিসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাযহার খানের বিরুদ্ধে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগ ওঠে এবং বিতর্কের মুখে তারা বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি (রাজনৈতিক) ফারিনা আরশাদের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিতর্কের মুখে পাকিস্তান সরকার তাকে ফিরিয়ে নেয়। ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। একই বছর জানুয়ারি মাসে পাকিস্তান হাইকমিশনের সহকারি ভিসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাযহার খানের বিরুদ্ধে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগ ওঠে। তাকেও অনেকটা একই রকম পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরকার ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

বাংলাদেশে জঙ্গিদের অর্থায়ন ও সংগঠিত করতে পাকিস্তানি নাগরিকদের তৎপরতা রয়েছে বলে গোয়েন্দারা বরাবরই সন্দেহ প্রকাশ করে এসেছে। পাকিস্তানসহ কয়েকটি রাষ্ট্র গভীর ষড়যন্ত্র করছে। তারা বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করাতে চায়। পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অনেকের সঙ্গে জেএমবিসহ জঙ্গি নেতাদের যোগাযোগের তথ্য রয়েছে। তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেনও ঘটেছে বিভিন্ন সময়। এমন মন্তব্য করেছিলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

 

একজন ইদ্রিস শেখ:

২০১৫ সালের নভেম্বরে সন্দেহভাজন কয়েকজন জেএমবি সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ইদ্রিস শেখ নামের একজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে পাকিস্তানি নারী কূটনীতিক ফারিনা আরশাদের সঙ্গে জঙ্গি যোগসাজশের তথ্য পাওয়ার দাবি করে গোয়েন্দা পুলিশ। এক সময় পাকিস্তানে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে যুক্ত থাকা ইদ্রিস আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ফারিনা আরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা ও তার কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার তথ্য দেন।

২০১৫ সালের ২৯ নভেম্বর রাজধানীর উত্তরা ও খিলগাঁও থেকে ইদ্রিস শেখসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের পর তৎকালীন গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, আটকদের মধ্যে ইদ্রিস ও মকবুলের কাছে পাকিস্তানি পাসপোর্ট পাওয়া গেছে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে তাদের। ইদ্রিসের কাছে একটি ‘স্পাই মোবাইল ফোন’ পাওয়া গেছে যার মাধ্যমে তিনি দেশের বাইরে একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং তথ্য আদান-প্রদান করতেন। পরে ঢাকা মহানগর হাকিম আবদুল্লাহ আল মাসুদের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন ইদ্রিস। ফারিনার সঙ্গে পরিচয়ের বিষয়ে ইদ্রিস আদালতকে বলেন, তিনি ২২ বছর পাকিস্তানে কাটিয়ে বাংলাদেশে ফেরার পর এয়ার টিকেটিং ও ভিসা প্রসেসিংয়ের ব্যবসা শুরু করেন। পরে তার সঙ্গে বাবুল নামের একজনের পরিচয় হয়, যার মাধ্যমে যোগাযোগ হয় কামাল নামের আরেকজনের সঙ্গে। কামাল তার কাছে নিজেকে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার লোক বলে পরিচয় দেন। ঘন ঘন টিকিট করে দেওয়ার কারণে বাবুলের কাছে তার অনেক টাকা বাকি পড়ে। একপর্যায়ে বাবুল পাকিস্তানে চলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি ফারিনা আরশাদের মোবাইল নম্বর দেন। বাবুলের মাধ্যমেই মূলত ফারিনার সঙ্গে পরিচয় হয়। ইদ্রিস বলেন, একবার ৩০ হাজার টাকা দিতে

এসে ফারিনা একটি ম্যাজেন্টা রঙের গাড়ি নিয়ে আসেন। সেসময় তিনি গাড়িতে করে বায়তুল মোকাররম থেকে তাকে ফকিরাপুলে নামিয়ে দেন।

গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ইদ্রিসের মোবাইল ফোনে নিজের নম্বর হিসেবে একটি বিদেশি নম্বর সংরক্ষণ করা আছে। সেই নম্বরটি ক্যাপ্টেন অসীম নামের এক পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তার। ওই পাকিস্তানি গোয়েন্দা দেশটির একটি বিমানবন্দরে ছদ্মবেশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত। পাকিস্তানের বিমানবন্দরে কর্মরত এ গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে ইদ্রিসের কথোপকথনের প্রমাণও পেয়েছে গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ফারিনা আরশাদ নানাভাবে ইসলামপন্থী জঙ্গিদের সহায়তা করেছেন। তার মাধ্যমেই পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার (আইএসআই) সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) নেতাদের যোগাযোগ রয়েছে।

এর আগেও ২০১১ সালের ১ মে এক জঙ্গি নেতার বাসা থেকে ইদ্রিসকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। র‌্যাব তখন তার হেফাজত থেকে ৪৭টি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়।

গোয়েন্দাদের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ বছর বয়সী ইদ্রিসের বাড়ি বাগেরহাটের চিতলমারীতে। তার বাবার নাম কাওসার শেখ। ইদ্রিস ১৯৮৫ সালে ভারত হয়ে পাকিস্তানে যান। সেখানে ‘পাক-মুসলিম অ্যালায়েন্স’ নামের একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে একবার জাতীয় নির্বাচনেও অংশ নেন। ইদ্রিস দীর্ঘদিন পাকিস্তানে বসবাস করেছেন এবং অসংখ্যবার সেখানে যাতায়াত করেছেন। দুই বছরে তিনি ৪৮ বার পাকিস্তান গেছেন বলে তার পাসপোর্টে প্রমাণ রয়েছে। ইদ্রিস পাকিস্তানে শাহনাজ বেগম নামের এক স্কুল শিক্ষিকাকে বিয়ে করেন। সেখানে  তাদের মোহাম্মদ আদিল নামের ছেলে আছে। দেশে ফিরে ২০০০ সালে ইদ্রিস ফের বিয়ে করেন মনোয়ারা বেগম নামের এক প্রতিবেশীকে। সেই সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে আছে। ইদ্রিস ২০০৭ সাল থেকে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। তিনি কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ২০১২ সালে এয়ার টিকিটিং ও ভিসা প্রসেসিং ব্যবসায় যুক্ত হন তিনি। তখন বাবুল নামের এক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে কামাল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয়। পরিচয়ের কিছুদিনের মধ্যেই কামাল নিজেকে ‘পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার লোক’ বলে ইদ্রিসকে জানায়।

ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের সহকারি ভিসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাযহার খান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে জঙ্গি কর্মকান্ডের সমন্বয় ও অর্থায়ন করে আসছিলেন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন আইএস-এর অন্যতম সংগঠকও এই পাকিস্তানি। পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরীর, আনসারউল্লাহ বাংলা টিম এবং জামায়াত-শিবিরকে। মাযহার খান নামে ওই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশবিরোধী ভয়ঙ্কর সব তৎপরতার তথ্য-প্রমাণ পেয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে শুরু হয় তোলপাড়। ওই কর্মকর্তার কর্মকান্ডে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সন্দেহও করেন কেউ কেউ।

সরকারি সূত্রগুলো জানায়, জঙ্গী তৎপরতাই শুধু নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ মুদ্রাবাজার ধ্বংস করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রও করেন তিনি। এ জন্য পরিচালনা করেন ভারতীয় জাল রুপির এক বিশাল নেটওয়ার্ক। ধরাও পড়েছিলেন গোয়েন্দা সংস্থার হাতে। কিন্তু কূটনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেয় ঢাকার পাকিস্তান দূতাবাস। বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতায় জড়িত এই কর্মকর্তাকে গোপনে পাঠিয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তানে।

 

মাযহারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মজিবুর রহমান:

দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানি দূতাবাস কর্মকর্তার সহযোগি মজিবুর রহমান নামে বাংলাদেশি একজন নাগরিক গ্রেফতার হওয়ার পর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও ধারাবাহিক তদন্তের সূত্র ধরেই বেরিয়ে আসে জঙ্গি তৎপরতা ও জাল রুপি নেটওয়ার্কে থাকা ব্যক্তিদের কার্যক্রমের ক্রমধারা ও রূপরেখা। পাওয়া যায় তাদের তালিকা ও কথোপকথনের সারাংশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নাশকতার সঙ্গে পাকিস্তান দূতাবাসের সহকারী ভিসা কর্মকর্তা মাযহার খানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় দীর্ঘ অনুসন্ধান চালায় বাংলাদেশের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। এরপর নিশ্চিত হওয়া যায় যে, মাযহার খান জাল নোট (রুপি) তৈরি ও সংগ্রহ করে কতিপয় বাংলাদেশি নাগরিকের মাধ্যমে ভারতে পাচার করেন। এতে তিনি প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

গোয়েন্দারা অনুসন্ধানে আরও নিশ্চিত হন যে, মাযহার খানের সঙ্গে জলিল আখতার ও মো. মজিবুর রহমানসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলের লোকজনের যোগাযোগ রয়েছে। এরমধ্যে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পুলিশের কর্মকর্তা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের (পিআইএ) কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত বিশেষ করে লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, যশোর, বেনাপোল এলাকার বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এটা নিশ্চিত হওয়ার পর গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি রাতে বনানীর মৈত্রী মার্কেট এলাকায় মজিবুর রহমান ও মাযহার খানকে গোপন বৈঠকের সময় আটক করে। ওই সময় মাযহার তার সঙ্গে থাকা বেশ কিছু কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলেন। ছিঁড়ে ফেলা কাগজ সংগ্রহ করে গোয়েন্দারা কিছু বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর পান। ওই পাসপোর্টের সূত্র ধরে আরও অনুসন্ধান করে জানতে পারেন যে, পাসপোর্টধারীদের এমন তিন ব্যক্তি রয়েছেন যাদের নাম বিভিন্ন সময়ে প্রস্তুত করা হিযবুত তাহরীরের তালিকায় আছে। এরপরই গোয়েন্দারা মজিবুর ও মাযহারকে আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বনানী থানায় নিয়ে যান। খবর পেয়ে সেদিনই রাত ১০টার দিকে ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রথম সচিব সামিনা মাহতাব বনানী থানায় উপস্থিত হয়ে মাযহার খানকে নিজের হেফাজতে নিয়ে যান। অন্যদিকে, মজিবুর রহমানকে পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এর আগে ৮ থেকে ১০ বছরে ২২ বার পাকিস্তানে ১১ বার ভারত ও ২২ বার থাইল্যান্ডে যাওয়া মজিবুর রহমানের সঙ্গে মাযহার খানের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন মাযহার খানের পূর্বসূরি সহকারি ভিসা কর্মকর্তা। পরবর্তীকালে মজিবুর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবিন্দতে জানান, মাযহার খান ১ লাখ ৮০ হাজার ভারতীয় জাল রুপি চালানোর জন্য তাকে দেন। একইভাবে মাযহার আরও ভারতীয় জাল রুপি জাহিদ, ইমরান ও আরও কয়েকজনকে দিয়ে বাজারে ছাড়ে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, মাযহার খান পাকিস্তান দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বাংলাদেশের মুদ্রা বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে দেন। এর মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর, আনসার উল্লাহ বাংলা টিম ও জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকান্ডে বিনিয়োগ করা হয়। মূলত  বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশে ব্যাপকহারে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, যা ধারাবাহিকভাবে চলছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রের তথ্যমতে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি  পাকিস্তানি মোহাম্মদ ইমরানকে আশি লাখ জাল রুপিসহ আটক করা হয় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে। ইমরানের পাসপোর্টের ভিসাও ছিল জাল। আগের ঘটনাগুলোর সঙ্গে ইমরানেরও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।

 

জঙ্গি সংগঠনগুলো সমন্বয়কারী মাযহার খান:

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের মন্তব্য অংশে বলা হয়, পাকিস্তান হাইকমিশনে ২ বছর দায়িত্ব পালনের বাইরে মোহাম্মদ মাযহার খান নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর, আনসার উল্লাহ বাংলা টিম ও জামায়াত-শিবিরের কর্মকাণ্ড, পৃষ্টপোষকতা, প্রশিক্ষণ ও অর্থায়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের মুদ্রাবাজার ধ্বংস করার লক্ষ্যে বিশাল জাল রুপির নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। এই নেটওয়ার্কের অন্যতম সদস্য মুজিবুর রহমান জঙ্গী সংগঠনগুলোর জন্য অর্থ পাচার কাজে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এ জন্যই তিনি ঘন ঘন ভারত, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে আসা-যাওয়া করেছেন। পাকিস্তানে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ভিসা না দেওয়ায় জাল ভিসার সংখ্যা বাড়ছে বলেও প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়।

ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের বিতর্কিত সহকারি ভিসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাযহার খান ৩১ জানুয়ারি ২০১৫ শনিবার পাকিস্তানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। পাকিস্তান হাইকমিশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১ ফেব্রুয়ারি ( রোববার) আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে মাযহার খানের ঢাকা ত্যাগের বিষয়টি জানায় পাকিস্তান দূতাবাস। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা তার (মাযহার) অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে প্রমাণসহ জানতে পারার পর পাকিস্তান মিশনকে তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য নির্দেশ দিই।’

 

কূটনীতিক প্রত্যাহারে পাকিস্তানের পাল্টা পদক্ষেপ:

জঙ্গী সম্পৃক্ততার অভিযোগে ঢাকায় পাকিস্তানি কূটনীতিক ফারিনা আরশাদকে চলে যেতে বলার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইসলামাবাদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর (রাজনৈতিক) মৌসুমি রহমানকে প্রত্যাহার করতে বলে পাকিস্তান। তবে কেন এই প্রত্যাহারের নির্দেশ- এর কোনও ব্যাখ্যা পাকিস্তান দেয় নি।

২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি ইসলামাবাদে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সোহরাব হোসেনকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে নিয়ে মৌখিকভাবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মৌসুমি রহমানকে প্রত্যাহারের কথা বলা হয়। পরদিন মৌসুমি রহমানকে ইসলামাবাদ থেকে পর্তুগালের লিসবনে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিয়োগ করা হয়।

 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension