
যথাযথ মর্যাদায় পালিত হলো শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, নিউইয়র্ক
রূপসী বাংলা প্রবাস ডেস্ক: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে প্রতিবছর ১৪ই ডিসেম্বর দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সহযোগী আলবদর-আলশামস নামের মিলিশিয়া বাহিনীর লোকেরা ঢাকা এবং দেশের অন্যত্র বাঙালি অধ্যাপক, শিল্পী, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, ও সাংবাদিকদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে।
তবে চিহ্নিতভাবে এই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড চলেছে দীর্ঘ সময় ধরে। বাংলাপিডিয়ার হিসেবে, পুরো ১৯৭১ সালজুড়ে এক হাজারেরও বেশি বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়।
বিনম্র শ্রদ্ধায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের উদ্যোগে পালিত হল শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৪ই ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যামাইকা হিল সাইড এভিনিউতে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানান সংগঠন ও কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ।
প্রদীপ প্রজ্বলনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সভাপতি ফাহিম রেজা নূর, যিনি নিজেও ১৯৭১ সালে হারিয়েছেন পিতা সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনকে, বলেন ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও দেশীয় রাজাকার, আলবদররা যে উদ্দেশ্য নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমার পিতাসহ বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল, আজ তাদের সে উদ্দেশ্য সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ সকল ঘাত প্রতিঘাতকে পিছনে ফেলে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার দিকে এবং আমি বিশ্বাস করি একটি রাজাকারমুক্ত সংসদ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বপক্ষের দলকেই আগামী নির্বাচনে নির্বাচিত করবে।
এর পরে সমবেত সবাই কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায় ও শহীদ হাসানের কণ্ঠের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে প্রদীপ প্রজ্বলনের অনুষ্ঠান শেষ করেন। প্রদীপ প্রজ্বলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মূলধারার রাজনীতিবিদ মোরশেদ আলম, মুক্তিযোদ্ধা শরাফ সরকার, মুক্তিযোদ্ধা মনির হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক খসরু, রাজনীতিবিদ তৈয়বুর রহমান টনি, বাচিক শিল্পী মুমু আনসারী, প্রাক্তন ছাত্রও নেতা ও কলামিস্ট কামাল হোসেন মিঠু, শহীদ বুদ্ধিজীবী সিরাজুদ্দীন হোসেনের সন্তান শাহীদ রেজা নুর, রাজনীতিবিদ ইসমাইল হোসেন স্বপন, সমীর ফারুক সহ কমিউনিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়া।বাংলা অক্ষর



