
আজ রাত ১২টার পর সশস্ত্র বাহিনীর ৩০ হাজার সদস্য নামছে
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে দায়িত্ব পালনে আজ রাত ১২টার পর থেকে নামছে সশস্ত্র বাহিনীর ৩০ হাজার সদস্য। এর মধ্যে দেশের ৩৮৯ উপজেলায় সেনাবাহিনী এবং ১৮ উপজেলায় নৌবাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও আইএসপিআর।
আজ ২৩ ডিসেম্বর রোববার রাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিকদের জানান, রোববার রাত ১২টার পর সোমবার থেকে সারাদেশে নামছে ৩০ হাজার সশস্ত্র বাহিনী। আর আইএসপিআর রাতে জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের ৩৮৯ উপজেলায় সেনাবাহিনী এবং ১৮ উপজেলায় নৌবাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতি জেলায় এক প্লাটুন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতার জন্য সেনাবাহিনী নামানোর সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৪ ডিসেম্বর সোমবার মাঠে নামছে সেনাবাহিনী।
এর আগে বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সেনাবাহিনী নির্বাচনকালীন সময়ে কি দায়িত্ব পালন করবে তা বিস্তারিত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘ইনস্ট্রাকশন রিগার্ডিং ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ অনুযায়ী ২ জানুয়ারি পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে সেনা সদস্যরা। তারা মূলত জেলা, উপজেলা ও মহানগর এলাকার সংযোগস্থলে (নডাল পয়েন্ট) অবস্থান করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে টহল ও অন্যান্য আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, ২৪ ডিসেম্বর থেকে আগামি ২ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। রিটার্নিং কর্মকর্তা সহায়তা চাইলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তারা সহায়তা করবেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজন অনুসারে উপজেলা থানায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ করা হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা বা প্রিসাইডিং কর্মকর্তার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তারা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে বা ভোট গণনাকক্ষের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী বা নির্দেশক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনে ইসির কাজে যাবতীয় সহায়তা দেবে সেনাবাহিনী।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে সশস্ত্র বাহিনীকে ডাকা হলে, তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৭ থেকে ১৩২ ধারা অনুযায়ী কাজ করবে। এক্ষেত্রে অন্য কোনও উপায়ে বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা না গেলে ঘটনাস্থলে থাকা সর্বোচ্চ পদের ম্যাজিস্ট্রেট সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগ ও গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিতে পারবেন। জরুরি পরিস্থিতিতে যদি কোনও ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে কমিশন্ড অফিসার সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগ এবং গ্রেফতার করার নির্দেশ দিতে পারবেন।



