
ধন্বন্তরি
প্রেম হেঁটে চলে এল আমাদের বাড়ি
রান্নার ঘরটি ওর বহু পরিচিত
দু’পেয়ালা কফি হাতে এল
বসেছে সে পাশের চেয়ারে
গল্প করল ইলিশের হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়ে
মানুষের আয়ু বেড়ে হয় যদি দেড়শ বছর
সমাজের ভারসাম্য কতটুকু নষ্ট হতে পারে-
এমন তর্কের জলে ছুড়ে দিল যুক্তিতথ্যতাপ
আমার অসুখ নিয়ে কোনো কথা নয়
ছোট্ট শব্দে একবার শুধু-
‘কবিতা কি নিয়মিত হয়?’
দেহ-মনে আজ আর ক্লান্তিচিহ্ন নেই
তৈরি হচ্ছি। যথাবেলা বের হবো অফিসের পথে
তর্ক
কে লিখেছে? তারচেয়ে বেশি মুগ্ধ চিঠির ভাষায়
আলো চোখ অশ্রু গন্ধ সবকিছু অমূল্য সুন্দর।
রিক্ত উৎকণ্ঠায় ফেলে প্রকৃতির আড়াআড়ি ভাঁজে
সমুদ্র পেয়েছে প্রাণ, নদীরেখা উল্লাসমুখর…
ঘোলাটে না স্বচ্ছতোয়া- তর্ক হতে পারে
নোনা। মিঠা। যা-ই হোক, দুটোই কিন্তু জল
মাটিতে আকাশগন্ধ। প্রেম হল প্রমিত, সফল
নির্বিকল্প
আকাঙ্ক্ষা নিভিয়ে রাখি, আমি তাই যথেষ্ট স্বাধীন
যে কোনো প্রাপ্তির মধ্যে একটা কিছু প্রশ্নচিহ্ন থাকে
লঘু পাপ, গুরু পুণ্য- চিন্তাগুলো ধারণাপ্রবণ
যতটা যাওয়ার কথা- যেতে হলে চলে যেতে হবে
প্রশ্নের উপরে নয়- ক্ষুন্নিবৃত্তি- ভালোবাসা- স্নেহ
যার জন্য মৃত্যু ভোলে পথ- চাই তাকে এবং তাকে
একটি পুরোনো গল্প
সকাল। দুপুর। সন্ধ্যা। রাত্রি।-
সময়কে কত নামে ভাগ করে নিই!
যখনই তুমি আস-না কেন
সঙ্গে করে নিয়ে আস আনন্দিত ভোর
আবারও সেই পুরোনো গল্প-
তুমি হও ব্রজগোপী, আর আমি মুগ্ধ ননীচোর
শব্দ
নৈঃশব্দ্যের মুখরতা (মাঝে মাঝে) মন্দ কিছু নয়
জলের ঠোঁটের হাসি, মাঠে মাঠে সবুজ হাওয়া
ভালো নয়- কোন মুখে বলি
যার জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষা আমার
কোনোকিছু না দেখার মতো
পিছনে তাকিয়ে একবার সেই মেয়ে যদি
দ্রুত চলে যায়
তার সে নিঃশব্দ চরণের ধ্বনি বুকে তুলে রাখি
তবে ‘শব্দ’ যে আমার অতিশয় প্রিয়
এ-কথা বলায় আমি মুখচোরা নই
শব্দ হচ্ছে অস্তিত্বের চাক্ষুষ প্রমাণ
শব্দ হচ্ছে ছন্দসুরে কবিতা ও গান
শব্দ হচ্ছে প্রকৃতির ঝলোমলো হাসি
শব্দ হচ্ছে উচ্ছ্বসিত আলো রাশি-রাশি
শব্দ হচ্ছে চলে যাওয়া, ফিরে চলে আসা
শব্দ হচ্ছে স্নেহপুণ্য প্রীতিভালোবাসা
দোষণের ঝুঁকি আছে, তবু আমি উঁচু-নিচু বহুবিধ শব্দ শুনতে চাই



