প্রধান খবরবাংলাদেশ

মির্জা আব্বাস দম্পত্তির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: মির্জা আব্বাস দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রায় ২১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সোমবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর শাজাহানপুর থানায় মামলাটি দায়ের করা হবে। অনুসন্ধান কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করবেন।

দুদক সূত্র জানায়, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মির্জা আব্বাস ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রথম দফায় অনুসন্ধান শেষে অনুসন্ধান কর্মকর্তার বদলি হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় অনুসন্ধান শুরু করেন দুদকের সহকারী পরিচালক সালাহউদ্দিন। অনুসন্ধান শেষে বিএনপির মহিলা দলের সভাপতি ও ঢাকা- ৯ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করা আফরোজা আব্বাস এবং তার স্বামী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা- ৮ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ২০ কোটি ৭৬ লাখ ৯২ হাজার ৩৬৩ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জনের প্রমাণ মেলে। অনুসন্ধান কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করে মামলা দায়েরের অনুমতি চান। কমিশনের বৈঠকে অনুসন্ধান সন্তোষজনক এবং প্রতিবেদন ঠিক থাকায় মামলা দায়েরের অনুমোদন দেন তারা।

অনুসন্ধানকালে সংগৃহীত তথ্যাদি ও নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং পরবর্তীকালে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ছিলেন। তার স্ত্রী মিসেস আফরোজা আব্বাসের আয়কর নথি পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, তিনি আয়কর নথিতে নিজেকে একজন হস্তশিল্প ব্যবসায়ী হিসাবে উল্লেখ করলেও তার পাসপোর্ট অনুযায়ী তিনি একজন গৃহিনী ও নিজের আয়ের কোনো বৈধ উৎস নেই।

দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধানকালে দুদকে দাখিলকৃত আফরোজা আব্বাসের সম্পদ বিবরণী যাচাইকালে তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড এর শেয়ার ৮ লাখ ৭০ হাজার ৭০৬টি, যার মূল্য ৮ কোটি ৭০ লাখ ৭০ হাজার ৬০০ টাকা, ঢাকা টেলিফোন কোম্পানি লিমিটেডের ১ লাখ শেয়ারের মূল্য ১০ কোটি টাকা, এফডিআর ও ডিপিএস-এ বিনিয়োগ ১৪ লাখ ৯ হাজার ৯৫৮ টাকা, ঢাকা টেলিফোন কোম্পানিকে ঋণ প্রদান এক কোটি টাকা, আত্মীয়-স্বজনদের ঋণ প্রদান ৪৫ লাখ টাকা, হাতে নগদ ও ব্যাংক ব্যালেন্স ৫ লাখ টাকা এবং স্বর্ণালংকার ক্রয় ৪২ লাখ ১১ হাজার ৮০৫ টাকাসহ মোট ২০ কোটি ৭৬ লাখ ৯২ হাজার ৩৬৩ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। মোট ২০ কোটি ৫২ লাখ ৮০ হাজার ৫৫৮ টাকার সম্পদের ঘোষণা প্রদান করেছেন।

দুদক জানায়, মিসেস আফরোজা আব্বাস দুদকে দাখিলকৃত ২০ কোটি ৫২ লাখ ৮০ হাজার ৫৫৮ টাকার সম্পদের উৎস হিসাবে এমএনএইচ বুলুর নিকট হতে দেড় কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ এবং মা-বাবা ও বোনের নিকট হতে ১ কোটি ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দান হিসাবে প্রাপ্ত হয়েছেন মর্মে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তার সপক্ষে কোনো দালিলিক তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি। এছাড়া বাকি অর্থ অর্জনের সপক্ষেও কোনো রেকর্ডপত্র অনুসন্ধানকালে দেখাতে পারেননি। প্রকৃতপক্ষে তিনি নিজের অবৈধভাবে অর্জিত জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ হস্তান্তর, রূপান্তর ও অবস্থান গোপন করণের অসৎ উদ্দেশ্যে দালিলিক প্রমাণবিহীন ভুয়া ঋণ গ্রহণ দেখিয়েছেন।

সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, মিসেস আফরোজা আব্বাসের নামে অর্জিত ২০ কোটি ৭৬ লাখ ৯২ হাজার ৩৬৩ টাকার সম্পদ প্রকৃতপক্ষে তার স্বামী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদের সহায়তায় অবৈধ উৎস থেকে অর্জিত। তাছাড়া মির্জা আব্বাস ১৯৯১ সালের পূর্বে উল্লেখযোগ্য কোনো আয় ছিল না। তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী হওয়ার সুবাদে তারা ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ওই টাকার সম্পদ অর্জন করেন। দুদকের অনুসন্ধানে অবৈধ পন্থায় অর্জিত সম্পদের অবৈধ পন্থায় হন্তান্তর, রূপান্তর, অবস্থান গোপন করায় দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০২ এর ১৩ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন করে বলে প্রমাণিত হয়েছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension