
নির্বাচিত কলাম
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের গূঢ় অর্থ অন্বেষণে
ড. মাহবুব উল্লাহ
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী আত্মসমর্পণ করলেও বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি তার পরিপূর্ণ সত্তা নিয়ে দাঁড়ায় নি বা দাঁড়াতে পারে নি। ১৬ থেকে ২২ ডিসেম্বর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল ভারতীয় সামরিক বাহিনী। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা ঢাকায় এসে পৌঁছলেন ২২ ডিসেম্বর।
বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। তিনি ঢাকায় এলেন ১০ জানুয়ারি ১৯৭২। তার দেশে ফেরার ব্যাপারটি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও পরিচিতি রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্ববহ ছিল। তিনি এসে জানতে পারলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আদর্শ হল- গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।
রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের প্রমাণ দিতে রেডিও টেলিভিশনের অধিবেশন শুরু হতো কোনও ধর্মগ্রন্থ থেকে কোনও ধরনের তিলাওয়াত বা আবৃত্তি ছাড়া। কারণ এর ফলে রাষ্ট্র ও ধর্ম কার্যত একাকার হয়ে যায়। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান যখন জানতে পারলেন রেডিও টেলিভিশনের অনুষ্ঠান শুরু হয় কোরআন তিলাওয়াত ছাড়া, সে মুহূর্তেই তিনি নির্দেশ দিলেন, রেডিও টেলিভিশনের অনুষ্ঠান শুরু হবে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে।
কিন্তু তিনি ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেন নি। আওয়ামী লীগ যখন ১৯৭০-এ নির্বাচন করে সেই নির্বাচনের ইশতেহারে বলা হয়েছিল, পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী কোনও আইন প্রণয়ন করা হবে না। স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে ১৯৭০-এর নির্বাচনী অঙ্গীকার থেকে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল। কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী কোনও আইন পাস করা হবে না থেকে ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় আদর্শরূপে ঘোষণা করা ছিল প্রবাসী সরকারের পক্ষে এক বিশাল পরিবর্তনের অঙ্গীকার।
কিন্তু রাষ্ট্রের মূল স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেয়ার পর যখন নির্দেশ দিলেন রেডিও টেলিভিশনে কোরআন তেলাওয়াতের তখন থেকে ধর্ম নিরপেক্ষতার সংজ্ঞায় বড় ধরনের পরিবর্তন এলো। তিনি মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে এমন কোনও রাষ্ট্রীয় চর্চা করতে চাইলেন না যাতে মুসলমানরা ক্ষুব্ধ হয়। তিনি যতদিন রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন ততদিনে অসংখ্য জনসভায় বলেছেন, ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ ধর্মহীনতা নয়। তিনি তার জনগণকে ধর্মনিরপেক্ষতার এ সংজ্ঞা দিয়ে কতটুকু আশ্বস্ত করতে পেরেছিলেন, তা নিয়ে আজ অবধি সন্দেহ রয়ে গেছে। ধর্মনিরপেক্ষতার সংজ্ঞা সামাজিক পরিপ্রেক্ষিতে ভিন্ন ভিন্ন রূপ গ্রহণ করে। তাই ধর্মনিরপেক্ষতা যে কী তা বোঝা অত্যন্ত কঠিন।
যাকে আমরা ধর্মনিরপেক্ষতা বলি, ইংরেজি ভাষায় তার অর্থ হল Secularism. বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবীরা কখনও বলে ধর্মনিরপেক্ষতা, আবার কখনও বলেন ইহজাগতিকতা। আমার কাছে মনে হয় ইহজাগতিকতাই Secularism-এর সঠিক অনুবাদ। Secularism-এর প্রবক্তারা চেয়েছিলেন রাষ্ট্র জনগণের ইহজগতের অর্থাৎ এ দুনিয়ার সমস্যাদি নিয়ে কাজ করবে।
পরকালে কী হবে না হবে সেটা ব্যক্তি বিশেষের ব্যাপার, রাষ্ট্রের ব্যাপার নয়। ব্যক্তি বিশেষ যে কোনও ধর্মাবলম্বী হতে পারে অথবা হতে পারে নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী। ধর্ম পালন করা বা না করার প্রশ্নে ব্যক্তি সৃষ্টিকর্তার কাছে দায়ী হবে, রাষ্ট্রের কাছে নয়। বিষয়টি একটু সঠিকভাবে বোঝার জন্য Secularism-এর উদ্ভবের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বুঝতে হবে।
পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত পোপের ছিল দোর্দান্ত প্রতাপ। এমনকি রাজন্যবর্গ পোপের নির্দেশ মেনে চলতেন। ইউরোপের গির্জাগুলো ৬৬ শতাংশ জমির মালিক ছিল। অর্থাৎ ইউরোপীয় সামন্তবাদ আসলে পোপকে নির্ভর করেই টিকে ছিল। পোপ প্রদত্ত খ্রিস্টিয় ধর্মের ব্যাখ্যার বাইরে কেউ কিছু করলে বা বললে দারুণ অত্যাচারের মুখোমুখি হতে হতো। অনেককে পোপের নির্দেশের বিরুদ্ধতার জন্য আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর ফলে ধর্মীয় যুদ্ধের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে প্রোটেস্টেন্ট সম্প্রদায়ভুক্ত খ্রিস্টানরা এ অত্যাচারের কবলে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত এ অত্যাচারের প্রতিবাদে সিদ্ধান্ত নেয়া হল, রাষ্ট্র ও গির্জা সম্পূর্ণভাবে পৃথক হবে। দেখা যাচ্ছে খ্রিস্টের জন্মের পর বহু সময়জুড়ে রাষ্ট্র Papacy-এর ওপর নির্ভরশীল ছিল। রাষ্ট্র থেকে গীর্জাকে পৃথক করা সত্ত্বেও পুরনো কিছু কিছু অভ্যাস অব্যাহত থেকেছে।
যেমন ইংল্যান্ডের রানী বা রাজা চার্চ অব ইংল্যান্ডের প্রধান। অধিকাংশ ইউরোপীয় রাষ্ট্রের পতাকায় খ্রিস্টের ক্রুশ চিহ্ন অঙ্কিত থাকে। পৃথিবীর সবচেয়ে শুদ্ধ সেক্যুলার রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রায় লেখা থাকে In God We Trust।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শপথগ্রহণ করেন বাইবেলের ওপর হাত রেখে। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বাংলাদেশের অন্যতম রাষ্ট্রীয় নীতি হওয়া সত্ত্বেও আমরা টেলিভিশনে প্রধানমন্ত্রীকে যখন ভাষণ দিতে দেখি তখন টেলিভিশনের পর্দায় ভেসে ওঠে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারের পেছনের দেয়ালে আরবিতে লিখিত কালেমা তাইয়্যেবা। কিন্তু শুদ্ধ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদে এ ধরনের প্রতীক ব্যবহারের কোনও সুযোগ নেই। তবুও ব্যবহৃত হয় এবং হবেও। ইউরোপের মতো এশিয়ায় গির্জার মতো প্রতিষ্ঠান কখনও ছিল না। আমাদের এ অঞ্চলে যেসব দরগা ও খানকা আছে সেগুলো ঐতিহাসিকভাবে রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব দরগা বা খানকা আছে সেগুলোর জন্য মুঘল সম্রাটরা লাখেরাজ জমি বরাদ্দ করেছেন। এ জমির জন্য কাউকে খাজনা দিতে হতো না। এখনও এ দেশে এ ধরনের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের দানের ওপর নির্ভরশীল। রাষ্ট্রীয়ভাবে বর্তমান সরকার মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বিভিন্ন সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীদের জন্য কল্যাণ ট্রাস্টও রয়েছে।
ইসলাম ধর্ম বিষয়ে গবেষণা ও কর্মকাণ্ডের জন্য আছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্র শুধু ইহজাগতিক কল্যাণের জন্য কাজ করে না, পরজগতের জন্যও কাজ করে। ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারে নিয়োজিত মাদ্রাসাগুলোর জন্য রয়েছে মাদ্রাসা বোর্ড। অবশ্য এ দেশের বৃহত্তর সংখ্যার কওমি মাদ্রাসাগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থাকতে চায়।
কিন্তু ইহজাগতিক সুবিধা লাভের জন্য কওমি মাদ্রাসা থেকে সনদপ্রাপ্তরা সেক্যুলার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রদত্ত সনদের সঙ্গে সমতুল্যতা দাবি করছে। কয়েক মাস হল বর্তমান সরকার কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস সনদকে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্সের সমতুল্য ঘোষণা করেছে। তবে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার অন্য স্তরগুলো কীভাবে মূল্যায়িত হবে সে ব্যাপারে সরকার কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নি। এর ফলে সরকারের ঘোষণার মধ্যে এক ধরনের অন্তঃসারশূন্যতা রয়ে গেছে। ঔপনিবেশিক আমলে রাজনৈতিক প্রয়োজনেই ব্রিটিশ সরকার কলকাতা মাদ্রাসা স্থাপন করেছিল।
সেই ঔপনিবেশিক যুগ থেকে আজ পর্যন্ত মাদ্রাসাগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন সরকার বেশ তৎপরতা চালিয়েছে। যদি সব ধরনের মাদ্রাসার ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে রাষ্ট্র এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যক্রম থেকে শুরু করে পরীক্ষা ও সনদায়নসহ সব ধরনের কাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। শুনতে অনেকটা সোনার পাথর বাটির মতো হলেও রাষ্ট্রের এ উদ্যোগকে আমরা বলতে পারি Secularizing Islam. এই প্রচেষ্টা পাকিস্তান আমলেও ছিল, যদিও পাকিস্তান রাষ্ট্রটি মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাসভূমি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
বিষয়টিকে আমরা দু’ভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি। প্রথমত রাষ্ট্র অত্যন্ত আগ্রাসী। এ সংস্থা তার মানচিত্রের মধ্যে অবস্থিত সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। দ্বিতীয়ত ধর্মচর্চাকে প্রণোদিত করে রাষ্ট্র তার Legitimacy প্রতিষ্ঠা করে। এরপর প্রশ্ন করতে হয়, সেক্যুলারিজম আসলে কী?
জাতি এবং সম্প্রদায়ের দিক থেকে সেক্যুলারিজম প্রশ্নটি বোঝার চেষ্টা করা যায়। ভারতে সেক্যুলারিজম জারি হয়েছে আধুনিকতা ও জাতীয়তাবাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। অবশ্য একই সঙ্গে এটি সাম্প্রদায়িকতার জবাবও। সাম্প্রদায়িকতাবোধের মধ্যেও জাতীয়তাবাদের fos উপস্থিত। জওহর লাল নেহেরু লিখেছেন, ‘Hindu Nationalism was a natural growth From the soil of India’. আবার অপরদিকে তিনি লিখেছেন, ‘Muslim Natnionalism- inevittably it comes in the way of the larger nationalism which rises above differences of religion or creed’. ‘Real or Indian nationalism was something quite apart from these two religious and communal varieties of nationalism, and strictly speaking it is the only form which can be called nationalism in the modern sense of word’ নেহেরুর এ বক্তব্যগুলো তার The Discovery of India এবং Glimpses of World History গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। নেহেরু একদিকে বলছেন হিন্দু জাতীয়তাবাদ ভারতের মাটি থেকে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠেছে। আবার অন্যদিকে বলছেন, মুসলিম জাতীয়তাবাদ অবশ্যই বৃহত্তর জাতীয়তাবাদের পথে প্রতিবন্ধক হিসেবে দাঁড়াচ্ছে।
এখানে ধর্ম ও বিশ্বাসের কোনও স্থান নেই। তিনি আরও বলছেন, খাঁটি অথবা ভারতীয় জাতীয়তাবাদ সাম্প্রদায়িকতাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং প্রকৃত অর্থে এটাকে জাতীয়তাবাদের আধুনিক প্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি ঔপনিবেশিক যুগে উপস্থিত হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্কের প্রধান বিষয় রূপে। প্রখ্যাত ভারতীয় রাষ্ট্রবিজ্ঞানী পার্থ চ্যাটার্জির মতে, সাম্প্রদায়িকতার ফলে সহিংস ও দুর্ভাগ্যজনক পরিণতির সৃষ্টি হয়েছে।
এগুলো কোনও মামুলি ব্যাপার নয়। সাম্প্রদায়িকতা ও জাতীয়তাবাদের গুরুত্ব সমান সমান। এ রকম অবস্থায়ই আমরা দেখতে পাই ভারত, নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা এবং অন্যান্য দেশে। কাল্পনিক জাতীয় সম্প্রদায়ের অর্থ খুঁজতে গিয়ে আমরা বুঝতে পারি কল্পিত জাতীয় সম্প্রদায় নিয়ে যে বিতর্ক হচ্ছে তার ধরনটি কী হবে, সম্প্রদায়ের চরিত্রই বা কী হবে? এটা কি এককেন্দ্রিক অথবা ফেডারেল ধরনের হবে?
এবং ফেডারেশনভুক্ত ইউনিটগুলো কি ক্ষমতা ভোগ করবে? নির্বাচনের ভিত্তি কী হবে এবং নির্বাচনী এলাকা কীভাবে চিহ্নিত হবে জাতিরাষ্ট্রের ভাষাগুলো অথবা ভাষা, সংস্কৃতি, পতাকা এবং জাতীয়সঙ্গীত কী হবে? বিবাহ এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকার প্রশ্নে সিভিল কোড কী হবে?
সর্বোপরি অর্থনৈতিক উন্নয়নের চরিত্র কী হবে? সংখ্যালঘিষ্ঠদের জন্য অথবা প্রান্তিক গোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা, সরকারি চাকরি, নির্বাচন, ধর্মীয় ও সংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনও রক্ষাকবচ থাকবে কিনা?
এসব প্রশ্নের আলোকে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতাবাদকে বিচার-বিশ্লেষণ করতে হবে। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ সংকীর্ণ অর্থে অথবা ব্যাপকতর অর্থে চর্চিত হচ্ছে কিনা তা নির্ণয়ের জন্য অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। বাংলাদেশে আমরা এসব প্রশ্নের মুখোমুখি হতে চাই কিনা?
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ রাজনীতির প্রয়োজনে সংকীর্ণ অথবা ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে কিনা তাও বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে। অন্যথায় এটি হয়ে যাবে একটি ফাঁকা বুলি। রাজনীতির প্রয়োজনে ধর্ম যেভাবে ব্যবহৃত হয় একইভাবে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদেরও ব্যবহার হয়।



