
মোদী হঠাতে বাম স্লোগানেই ভরসা মমতার
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: মোদী সরকার উৎখাতে মরিয়া বিরোধী শিবির৷ উল্লেখযোগ্য ভূমিকায় তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মসনদ থেকে মোদীকে উৎখাতে এবার ৯০-এর দশকের বামপন্থীদের স্লোগানেই ভরসা রাখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর স্লোগান, ‘‘গলি গলি ম্যায় শোর হ্যায় মোদী সরকার চোর হ্যায়৷’’
প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর আমলে বোফর্স কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছিল৷ উত্তাল হয় গোটা দেশ৷ বোফর্স কেনার ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে৷ এই অভিযোগ তোলে বিরোধীরা৷ সেই সময় গান্ধী সরকারকে দিল্লির মসনদ থেকে হঠাতে বামপন্থীদের স্লোগান ছিল, ‘গলি গলি ম্যায় শোর হ্যায় রাজীব গান্ধী তোর হ্যায়’৷ এই স্লোগান পরে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে৷ ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত শেষ হয় রাজীব গান্ধী সরকারের মেয়াদ৷
১৯৮৯ সালে দেশে সাধারণ নির্বাচন হয়৷ বোফর্সের প্রচারে ধরাশায়ী হন রাজীব৷ প্রধানমন্ত্রী হন জনতা দলের বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং৷ সেই থেকে ভারতের অন্যতম দুর্নীতির তালিকায় নাম উঠে যায় বোফর্সের৷ ঘটনার আড়াই দশক পরেও রাজনীতির তুরুপের তাস এই প্রতিরক্ষা খাতের সেই বোফর্স কেলেঙ্কারি৷ এবার মোদী সরকারকে বিঁধতে কংগ্রেস শিবিরের অবস্থান রাফায়েল বিমান কেনা সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ৷
বুধবারই আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল বেণুগোপাল জানিয়েছেন রাফায়েলের নথি চুরি গিয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রক থেকে৷ যা লোকসভার আগে প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করতে শক্তি বাড়িয়েছে বিরোধী শিবিরের৷ তাই ফের সামনে আড়াই দশক আগের স্লোগান৷ পার্থক্য দুটো৷ সেই সময় যা ছিল বামেদের তুরুপের তাস, এবার তা শোনা গেল তা মমতার মুখে৷ প্রধানমন্ত্রী গান্ধীর বদলে এবার তীর নরেন্দ্র মোদীর দিকে৷
বোফর্স কেলেঙ্কারির পরে বিরোধীদের প্রচারের চাপে ১৯৮৯ সালের লোকসভা ভোটে হেরে যায় কংগ্রেস৷ সরকার গঠন করেন জনতা দলের বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং৷ তবে তা টিকে ছিল মাত্র ৩৪৩ দিন৷ পরে কংগ্রেসের হাত ধরে সরকার গঠন করেন সমাজবাদী জনতা দলের চন্দ্রশেখর৷ তাঁর সরকারও ছিল মাত্র ২২৩ দিন৷ ১৯৯১ সালে ফের আসে কংগ্রেসর সরকার৷ প্রধানমন্ত্রী হন নরসিমা রাও৷ এই সরকার স্থায়ী হয়৷
প্রেক্ষাপট যাই হোক না কেন, দুর্নীতির প্রশ্নে তা এক করেই দেখতে চাইছে বর্তমান বিরোধী শিবির৷ তাই পুরনো স্লোগানকে নতুন মোড়কে এনে ‘মোদীবাবু’কে হটাতে উদ্যোগী তৃণমূল নেত্রী মমতা৷



