বিনোদন

‘কুচুটেপনা’ নয়, GEN ‘Y’ বৌ-মা সম্পর্ক ‘খাট্টা-মিঠা’ ভালো বাসার

রূপসী বাংলা বিনোদন ডেস্ক: শ্বাশুড়ি-বৌমা সম্পর্ক। আরে ওই তো সিরিয়ালেও যা দেখায় ও তো তেমনই। ‘কাহানি হর ঘর কি’। ‘কিউ কি শাস ভি কভি বহু থি’ কেউ মনে রাখে না। ভুল ধারনা, মনে রাখতে চাইলেও মানসিকতা সেটাকে হয়তো অম্ল মধু থেকে তেঁতো করে ছাড়ে। সময় বদলাচ্ছে বদলাচ্ছে শ্বাশুড়ি-বৌমা’র সম্পর্ক। সন্ধ্যা বেলা হলেই শুরু হওয়া কুচুটেপনায় ভরতি সিরিয়ালে শ্বাশুড়ি-বৌমার সম্পর্কের বাইরেও কিছু আছে। তাঁরাও আপনার আমার এই মহানগরের শ্বাশুরি বৌমা।

এই যেমন গড়িয়ার গাঙ্গুলি বাড়ির শ্বাশুড়ি-বৌমা। বেশ গলায় জড়িয়ে সিনেমা দেখতে এসেছেন। বৌমা মাত্র একবছর হয়েছে গাঙ্গুলি বাড়িতে এসেছে। সম্পর্ক একদম বিন্দাস। তা বলে কি কখনও ঝগড়াঝাটি হয়নি? হয়েছে তবে সে অর্থে নয়। সাময়িক মতের অমিল। তারপরেই সব ঠিকঠাক। যেমন মা মেয়ের মধ্যে হয়ে থাকে। মায়ের সব কথা মেয়ের ভালো লাগবে না। মেয়েরও মায়ের সব কথা পছন্দ হবে না। ঠিক তেমনই গরিয়াহাটের গাঙ্গুলি শ্বাশুড়ি-বৌমার সম্পর্ক। খাট্টা মিঠা। আবার বকুলতলার চক্রবর্তীদের শ্বাশুড়ি-বৌমার কথা বলা হয় ওঁদের সম্পর্কটাও বহু বছর এমনই। মা মেয়ের মতো হয়ে গিয়েছে। সময়ের সঙ্গে দু’জনে দুজনের সমস্যাগুলো গুছিয়ে নিয়েছেন নিজেদের মধ্যে। আর তাতেই তৈরি হয়েছে বন্ধুত্ব। ‘টেরা হ্যাঁয় পর মেরা হ্যাঁয়’ গোছের। শোভাবাজারের সাহা শ্বাশুড়ি-বৌমা। ওঁদের জুটি হয়ে গিয়েছে আজ প্রায় ১৫ বছর হয়ে গিয়েছে। খুটখাট বাসনের আওয়াজ কি হয়নি। অবশ্যই হয়েছে। কিন্তু ওই যে সময় বদলেছে। দু’জনে একসঙ্গে বসে সন্ধ্যার সিরিয়ালে শ্বাশুড়ি-বৌমার কুটকচালি দেখে মজা নেন, কিন্তু সেই প্রভাব পর্দার বাইরে এসে রিয়েল লাইফে পড়ে না বলেই জানাচ্ছেন তাঁরা।

৮ মে নারী দিবস , বিশেষভাবে নারীদের দিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় আজ নারীবাদীদের ঝড় উঠবে। কিন্তু ঘর থাকবে ঘরেই। এক বছর হোক কিংবা ১৫ বছর আলাদা করে নারী দিবসের ধ্বজা ওড়ানোর ওঁদের সময় নেই। কিন্তু ওঁরা ভালো আছেন একসঙ্গে। থাকতে চান ভালো বাসায়। এভাবেই।

প্রসঙ্গত মুখার্জি’র বউ ছবির প্রিমিয়ারের মঞ্চে শহরের এমনই সাধারন মধ্যবিত্ত ১০০ জন শ্বাশুরি বৌমাকে হাজির করেছিল এক জুয়েলারি সংস্থা। তাঁরাই জানালেন তাঁদের খাট্টা মিঠা সুন্দর সম্পর্কের কথা।

মূলত নারী দিবস উদযাপনের পিছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ সালে মজুরিবৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেই মিছিলে চলেছিল সরকার লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন। ১৯০৮ সালে নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হয়।

ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ; জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। এরপর ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এই সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয় ১৯১১ সাল থেকে নারীদের সমঅধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। দিনটি পালনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা। ১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ পালিত হতে লাগল নারী দিবস উপলক্ষে। ১৯৭৫ সালের ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। দিনটি পালনের জন্য বিভিন্ন দেশকে আহ্বান জানানো হয়। এরপর থেকে সারা পৃথিবী জুড়েই পালিত হচ্ছে দিনটি নারীর সমঅধিকার আদায়ের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার অভীপ্সা নিয়ে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension