
রমজান মাসে ভোট: ‘রাজনীতির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে মুসলিমদের’
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: রমজান মাসে লোকসভা ভোট নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে৷ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে৷ এই নিয়ে সরব মুসলিম নেতারা৷ ব্যাতিক্রমী আসাদুদ্দিন ওয়াইসি৷ রমজান মাসে ভোট নিয়ে তাঁর গলায় উল্টো সুর শোনা গেল৷ মুসলিমদের জন্য রাজনৈতিক দলগুলির ‘কান্না’ দেখে তোপ দাগেন তিনি৷ বলেন, অযথা বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে৷ পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতারা তাদের ফায়দায় মুসলিমদের ব্যবহার করা নিয়েও সাবধান করে দেন৷
অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমেন প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি সোমবার বলেন, ‘‘রমজান মাসে ভোট নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তা পুরোটাই অর্থহীন ও অপ্রয়োজনীয়৷ রাজনৈতিক দলগুলির কাছে আর্জি তারা যেন মুসলিম সম্প্রদায় ও রমজান নিয়ে আর কোনও রাজনীতি না করেন৷’’ হায়দরাবাদের এই সাংসদ মনে করেন, রমজান মাসে আরও বেশি করে মানুষ ভোট দিতে বেরবে৷ ভোটের হার বাড়বে৷ নির্বাচন হবে অবাধ ও সুষ্ঠু৷
সোমবার নির্বাচন কমিশন ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করে৷ তারপর থেকেই রমজান মাসে ভোট হওয়া নিয়ে সোচ্চার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল৷ তৃণমূল কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি ও কংগ্রেস নেতারা এই নিয়ে মুখ খোলেন৷ আম আদমি পার্টি নেতা আমানুতুল্লাহ খানের দাবি কমিশনের এই সিদ্ধান্ত মুসলিম ভোটারদের ভাবাবেগকে আহত করেছে৷ রমজান মাসে সারাদিন রোজা রেখে ভোট দেওয়া বা ভোটের কাজ করা মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য কষ্টকর৷ সেটা মাথায় রাখেনি কমিশন৷ অবিবেচকের মত রমজান মাসে ভোটের তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়েছে বলে সমালোচনা করেছেন এই নেতা৷
আমানুতুল্লাহ খানের মত একই সুরে কথা বলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রও৷ রমজান মাসের মধ্যে ভোটের দিনগুলি বিবেচনা করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন তিনি৷ রবিবার ভোটের দিন ঘোষণা হওয়ার পরই তিনি একটি প্রেস বিবৃতি দেন।
রমজানের সময় ভোট না করানোর আরজি জানিয়েছেন কলকাতার মেয়র ও তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমও৷ তাঁর মতে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মানুষদের জন্য সাত দফায় ভোট নিঃসন্দেহে কষ্টকর৷ বিশেষত মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা বেশি সমস্যায় পড়বেন৷



