
২% প্রণোদনার সুফল যুক্তরাষ্ট্রে সোনালী এক্সচেঞ্জে হুন্ডি ছাড়ছেন প্রবাসীরা
রূপসী বাংলা প্রবাস ডেস্ক: শতকরা ২ টাকা হারে বোনাস, বিশ্বস্থতার সাথে স্বল্পতম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছা এবং ডলারের মূল্য সামান্য বৃদ্ধির সুফল পেল যুক্তরাষ্ট্রে সোনালী এক্সচেঞ্জ কোম্পানী। ঈদুল আযহার প্রাক্কালে ডলারের রেট ৮৫ টাকায় স্থির করার সাথে সাথে বাংলাদেশেও প্রেরিত অর্থের ওপর ২% হারে প্রণোদনার ঘোষণা মন্ত্রের মত কাজ করেছে প্রবাসীদের মধ্যে। গত বছরের কুরবানী ঈদের আগে এক মাসে সোনালী এক্সচেঞ্জের ১০টি শাখার মাধ্যমে আমেরিকা থেকে ১৩৫০০ জন প্রবাসী বাংলাদেশে স্বজনের কাছে পাঠিয়েছিলেন ৯.৩০ মিলিয়ন ডলার। আর এবার ৬ অগাস্ট পর্যন্ত একমাসে ১১.৫০ মিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন ১৬ হাজার প্রবাসী। অর্থাৎ প্রেরণকারির সংখ্যা আড়াই হাজার বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় সোয়া দুই মিলিয়ন ডলার (প্রায় সোয়া ১৭ কোটি টাকা)।
সোনালী এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা মো. জহুরুল ইসলাম এ সংবাদদাতাকে ৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়ে আরো বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকেই আমাদের মাধ্যমে প্রেরিত অর্থ খুবই কম সময়ের মধ্যে প্রাপকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। কোন হেরফের হচ্ছে না রেট নিয়েও। এরফলে কঠোর পরিশ্রমী প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে ডলারের রেট বৃদ্ধির পাশাপাশি ২% হারে বোনাস ঘোষণার ব্যাপারটি।’
‘এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে সোনালী এক্সচেঞ্জে সেবার মানোন্নয়নেও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সকলেই কাজ করছি পরস্পরের সহযোগী হয়ে। ফলে কোন সমস্যাই হচ্ছে না অর্থ প্রেরণে’-উল্লেখ করেন জহুরুল। ‘রেমিটেন্স প্রেরণের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্যে নিউইয়র্কস্থ গণমাধ্যমকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তাদের সহযোগিতায় প্রবাসীদের আস্থা বেড়েছে। এ ঘটনা আমাকে অভিভ’ত করেছে’-মন্তব্য জহুরুলের। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, জর্জিয়া, মিশিগানে ১০টি শাখা রয়েছে বাংলাদেশে প্রবাসীদের অর্থ প্রেরণের জন্যে। প্রবাসীদের সময়ের সাথে সঙ্গতি রেখেই প্রতিটি ব্রাঞ্চ গড়ে সপ্তাহের ৭ দিনই খোলা রাখা হচ্ছে। গত দু’বছর যাবত এই প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্ব বজায় রেখে টিমওয়ার্ক বেগবান হওয়ায় ইতিপূর্বেকার লোকসানের মাত্রাও কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়েছে বলে জানালেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী। উল্লেখ্য, আগের সিইও (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা)’র মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি দায়িত্ব ছাড়ার পর ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে জ্যাকসন হাইটস শাখার ম্যানেজার জহুরুল নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে পুরো ব্যাংকের দায়িত্ব পালন করছেন। সোনালী ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সোনালী এক্সচেঞ্জ গত বছর আমেরিকা থেকে মোট ৮৭.১৫ মিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছে বাংলাদেশে। আগের ৫ বছরের যে কোন সময়ের তুলনায় তা সর্বোচ্চ। এর ফলে গত বছর সকল খরচ পুষিয়ে নেয়ার পর লাভ হয়েছে ১৯ হাজার ডলার। জহুরুল উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালে সোনালী এক্সচেঞ্জ লোকসান দেয় ২.২৭ লাখ ডলার। তার আগের বছর লোকসানের পরিমাণ ছিল ৬৬ হাজার ডলার। গত বছর অর্থ প্রেরণকারির সংখ্যাও আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে ১১০০০। মোট ছিল ১২২৪৩১। গত ৮ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশী গ্রাহক অর্থ পাঠান গত বছর। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, ১৯৯৪ সালের ডিসেম্বরে চালু সোনালী এক্সচেঞ্জ গত ২৪ বছরে (গত ডিসেম্বর পর্যন্ত) মোট ৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছে বাংলাদেশে।
এদিকে, নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশী এবং দক্ষিণ এশিয়ানদের বিভিন্ন রেমিটেন্স কোম্পানীতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোনালী এক্সচেঞ্জের রেট বৃদ্ধির ব্যাপারটি তাদেরকে হতাশ করেছে। এরসাথে ২% প্রণোদনা সকলকেই সোনালী এক্সচেঞ্জে টানছে। গ্রাহকসেবার এই মান ধরে রাখতে পারলে হুন্ডির পথ আরো দ্রুত পরিহার করবেন প্রবাসীরা-এমন অভিমত সুধীজনের। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয় যে, প্রবাসীদের অধিকাংশই বেশ ক’বছর যাবত বেসরকারী চ্যানেলে স্বজনের কাছে অর্থ পাঠাচ্ছিলেন। এর অন্যতম কারণ ছিল সোনালী এক্সচেঞ্জের চেয়ে তাদের ডলারের রেট কিছু বেশী ছিল। কিন্তু এখন উল্টো চিত্রের সাথে বোনাস যুক্ত হওয়ায় সকলেই সরকারী চ্যানেলকে অধিক লাভজনক ভাবতে শুরু করেছেন।এনআরবি নিউজ



