
ইটালিতে ২ বাংলাদেশিসহ ৫ খামার মালিক গ্রেফতার
ইটালিতে আনোয়ার হোসেন মিজান এবং কাকন দাস দুই বাংলাদেশি দালালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে জেন্নারো, ফ্রাঞ্চেস্কো, রক্কো, সাভেরিও এবং রবের্তো নামে পাঁচ ইটালিয়ান নাগরিককে।
২৩ জুন ইটালির জাতীয় গণমাধ্যমগুলো বেশ ফলাও করে ছেপেছে সেখানকার অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের দুঃখ দুর্দশার গল্প। ইটালির দক্ষিণাঞ্চলীয় কালাব্রিয়া বিভাগের কোসেনছা প্রভিন্সে এক অন্ধকার কৃষি খামারে রীতিমত গিনিপিগ বানিয়ে রাখা হয়েছিল কজন বাংলাদেশিকে তাদেরকে।
জানা যায়, কোসেনছা প্রভিন্সের আমান্তেয়া পৌর এলাকার কৃষি খামারে দিনের পর দিন অন্যায় অত্যাচার সইতে না পারা খামারে কর্মরত এক বাংলাদেশির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের স্পেশাল ফোর্স অতি সম্প্রতি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করলে বেরিয়ে আসে অন্ধকার জগতের ন্যাক্কারজনক বাস্তবতা।
সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে খামারের ৫ ইতালিয়ান মালিক জেন্নারো, ফ্রাঞ্চেস্কো, রক্কো, সাভেরিও এবং রবের্তোকে। এদের সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছে দুই বাংলাদেশি দালাল আনোয়ার হোসেন মিজান এবং কাকন দাস।
কোসেনছা প্রভিন্সের পাওলা এরিয়ার প্রসিকিউটর পিয়েরপাওলো ব্রুনি এবং ম্যাজিস্ট্রেট মারিয়াগ্রাৎসিয়া এলিয়া জানান, হাজার হাজার মাইল বিপদসংকুল ভয়ংকর পথ পাড়ি দিয়ে স্বদেশী দালালদের মাধ্যমে ইটালি আসার পর ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সী এসব হতভাগ্য বাংলাদেশিদের নিয়ে এখানকার স্থানীয় কাজের বাজারে যা ঘটেছে তা রীতিমত ভয়ংকর।
ঘন্টায় মাত্র ১ ইউরো ৫০ সেন্ট পারিশ্রমিক দিয়ে ক্ষান্ত হয় নি খামার মালিক, গালিগালাজ ও হুমকি ধামকিতে টানা ২৬ ঘন্টার শিফটেও কাজে বাধ্য করত শ্রমিকদের। দিন শেষে ভাঙ্গা টয়লেট সমৃদ্ধ ছোট অ্যাপার্টমেন্টে ১০ জনকে রাখা হতো গাদাগাদি করে।
নিপীড়ন আর বঞ্চনার শেষ ছিল না খামারে। আটক ৫ মালিক এবং পালিত দালাল ও সহযোগী সাঙ্গপাঙ্গরা খামারের অভ্যন্তরে নিজেরা চেয়ার টেবিলে বসে খাবার খেলেও ভিন্ন রঙের অন্য চামড়ার ‘গিনিপিগ’ বাংলাদেশিদেকে খাবার খেতে দেওয়া হতো তাদের সামনেই মাটিতে লাইন ধরে বসিয়ে।
স্থানীয় পুলিশের উপপ্রধান জুসেপ্পে জানফিনি পরিচালিত অপারেশনে অবশেষে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় অপরাধীদের। দেড় ইউরো ঘন্টা বেতন আর টানা ২৬ ঘন্টার শিফট ডিউটির লোমহর্ষক খবরে নিন্দার ঝড় বইছে ইটালিয়ানদের ভেতর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ⛘



