যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা ডোলোরেস হুয়ের্তা আর নেই

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষিশ্রমিকদের অধিকার আদায় ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ডোলোরেস হুয়ের্তা আর নেই। ৯৬ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি। বুধবার (২৮ অক্টোবর) তার পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর খবর জানানো হয়। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন।
১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে কৃষিশ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় শ্রমিক নেতা সিজার শাভেজের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন হুয়ের্তা। দুজনে মিলে প্রতিষ্ঠা করেন ইউনাইটেড ফার্ম ওয়ার্কার্স (ইউএফডব্লিউ) ইউনিয়ন। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত অভিবাসন, ভোটাধিকার, নারীর অধিকারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।

নিউ মেক্সিকোতে জন্ম নেওয়া হুয়ের্তা ক্যালিফোর্নিয়ার স্টকটনে বেড়ে ওঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও পরে শ্রমিকদের সংগঠিত করার কাজে যুক্ত হন। নাগরিক অধিকার ও পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। পাশাপাশি বড় করেছেন ১১ সন্তানকে।

হুয়ের্তার পরিবারের মুখপাত্র এরিক অলভেরা বলেন, তার মৃত্যু পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শোকের এই সময়ে পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান জানানোর অনুরোধ করেন তিনি। ইউনাইটেড ফার্ম ওয়ার্কার্সের বহুল পরিচিত স্লোগান ‘সি সে পুয়েদে’—যার অর্থ ‘হ্যাঁ, আমরা পারব’—প্রচলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল হুয়ের্তার। উন্নত কর্মপরিবেশ ও অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে স্লোগানটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

ইউএফডব্লিউর বিবৃতিতে বলা হয়, হুয়ের্তা মানুষের ক্ষমতায়ন এবং বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁর কাজ কৃষিশ্রমিক ও লাতিনো সম্প্রদায়কে আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী করেছে।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, মেক্সিকোর পুরুষদের অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এনে কাজ করানোর ‘ব্রাসেরো কর্মসূচি’ বন্ধের আন্দোলনেও ভূমিকা রাখেন হুয়ের্তা। এ ছাড়া ১৯৮৬ সালের অভিবাসন সংস্কার আইন নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রেও কাজ করেন তিনি।

ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ভোটো লাতিনোর প্রেসিডেন্ট মারিয়া তেরেসা কুমার তাকে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত হুয়ের্তা সবার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় লড়াই করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের লাতিনো সদস্যদের সংগঠন কংগ্রেশনাল হিস্পানিক ককাসও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, হুয়ের্তার উত্তরাধিকার যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ন্যায়বিচারের জন্য তার সংগ্রাম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে হুয়ের্তা অভিযোগ করেন, শ্রমিক নেতা সিজার শাভেজ তাকে যৌন সম্পর্কে জড়াতে চাপ দিয়েছিলেন এবং একবার জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। শাভেজ ১৯৯৩ সালে মারা যান।

এর আগে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে হুয়ের্তাসহ তিন নারীর অভিযোগ প্রকাশিত হয়। তাদের অভিযোগ, শাভেজ শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের যৌন নির্যাতন করতেন।

হুয়ের্তা জানান, শাভেজের সঙ্গে ওই দুই ঘটনার ফলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিলেন। বিষয়টি গোপন রেখে সন্তানদের অন্য পরিবারের কাছে বড় করার ব্যবস্থা করেন তিনি। সে সময় শাভেজের পরিবার প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে গভীরভাবে মর্মাহত হওয়ার কথা জানায় এবং অভিযোগ প্রকাশ্যে আনতে এগিয়ে আসা নারীদের সাহসের প্রশংসা করে।

সূত্র: বিবিসি

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension