
স্পেনে করোনায় আক্রান্ত ১ লাখ প্রাণী মেরে ফেলার নির্দেশ
স্পেনের খামারে মিনক নামের বেজি জাতীয় এক প্রাণীর মধ্যে অধিকাংশই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের সংখ্যা প্রায় এক লাখ।
এ অবস্থায় প্রাণীগুলোকে বাছাই করে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ।
বৃহস্পতিবার আরাগানের কৃষিমন্ত্রী জোয়াকুইন ওলোনা সাংবাদিকদের বলেন, মানবিক সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে এই মিনকগুলো মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাণী থেকে মানুষে ও মানুষ থেকে প্রাণীতে সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে, তবে এটি স্পষ্ট নয়। হতে পারে কোনো আক্রান্ত খামারি শ্রমিক অজান্তেই প্রাণীদের মধ্যে এই রোগটি ছড়িয়ে দিয়েছে। অথবা আরেক তত্ত্বমতে প্রাণীগুলো থেকেই রোগটি খামারিদের মধ্যে ছড়িয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলছে, গত মে মাসে স্পেনের আরাগান প্রদেশের এক খামার কর্মচারীর স্ত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সেখানে মহামারীর প্রাদুর্ভাবের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর তার স্বামীসহ আরও ছয়জন কৃষক করোনায় আক্রান্ত হন।
ওই খামারে শ্রমিকরা করোনায় সংক্রমিত হওয়ায় মিনকগুলোকে তাদের থেকে আলাদা রাখা হয়েছিল। কিন্তু গত ১৩ জুলাই পরীক্ষায় জানা যায়, মিনক নামক ওই প্রাণীগুলো করোনায় সংক্রমিত হয়েছে।
এ ঘটনার পরপরই দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ প্রায় ৯২ হাজার ৭০০ অর্ধ-জলজ এই প্রাণীগুলোকে মেরে ফেলার জন্য আলাদা করার নির্দেশ দেয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ফার্মের পরিচালনাকারী সংস্থাটিকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। স্পেনের মাদ্রিদ ও কাতালোনিয়ার পাশাপাশি আরাগান প্রদেশটি করোনভাইরাসের প্রধান হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
স্থানগুলোতে মহামারি শুরু থেকে দুই লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি আক্রান্ত হয়েছে ও মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার।
ইউরোপে ১০ লাখের বেশি মিনকের মাঝে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মিনক ফার্মে এই রোগটি একটি প্রাণী থেকে অন্য প্রাণীতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিবিসি
কাতালোনিয়ার ৪০ লাখ বাসিন্দাকে বাড়ি থাকার নির্দেশ
রাজধানী বার্সেলোনাসহ কাতালোনিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৪০ লাখ বাসিন্দাকে বাড়িতে থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই অঞ্চলে নতুন করে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শুক্রবার এ আহ্বান জানানো হয়েছে।
কাতালোনিয়ার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আলবা ভারগাস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘একান্ত প্রয়োজন না হলে লোকজনকে আমরা ঘোরাফেরা না করার পরামর্শ দিচ্ছি। এই পদক্ষেপগুলোকে সম্মান জানানো এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, লকডাউন এড়ানোর এটাই সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি।’
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করা হবে। তবে বার্সেলোনার জাদুঘর খোলা থাকবে। এছাড়া বার ও রেস্তোরাঁ খোলা থাকলেও ভেতরে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অর্ধেক গ্রাহক বসতে পারবেন।
গত মাসে স্পেনে করোনার সংক্রমণ কমে আসায় লকডাউন প্রত্যাহারের পর এটি সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।❑



