
মোদিকে চিঠি সুশান্তের বোনের, রিয়া সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেহরক্ষীর
বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিংহ রাজপুতের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বারস্থ হয়েছে তার পরিবার। শনিবার প্রধানমন্ত্রীকে লেখা এক খোলা চিঠিতে সুশান্তের বোন শ্বেতা সিংহের আবেদন, তিনি (মোদি) যেন হস্তক্ষেপ করে সুশান্তকে ন্যায়বিচার পেতে সাহায্য করেন।
অন্য দিকে শনিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিহার পুলিশের ডিজি গুপ্তেশ্বর পাণ্ডে জানান, খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না রিয়া চক্রবর্তীকে, তবে যথাসাধ্য চেষ্টা চালাচ্ছে বিহার পুলিশ।
নিজের টুইটারে শ্বেতা প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে লেখেন, আমরা এবং আপনি (নরেন্দ্র মোদি), খুব সাধারণ পরিবার থেকে আজ এই জায়গায় পৌঁছেছি। আমার ভাইয়ের কোনও গডফাদার ছিল না। এখনও নেই। আপনার কাছে আমার একান্ত অনুরোধ, আপনি নিজে এই গোটা ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করুন। আমরা ন্যায়বিচার চাই।
অন্য দিকে শুক্রবারই সুশান্তের পরিবারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন অভিনেতার বন্ধু সিদ্ধার্থ পিঠানি। এক ইমেলের মাধ্যমে সিদ্ধার্থ মুম্বই পুলিশকে জানান, রিয়ার বিরুদ্ধে বলতে তাকে নাকি রীতিমতো জোর করছে সুশান্তের আত্মীয়রা।
I am sister of Sushant Singh Rajput and I request an urgent scan of the whole case. We believe in India’s judicial system & expect justice at any cost. @narendramodi @PMOIndia #JusticeForSushant #SatyamevaJayate pic.twitter.com/dcDP6JQV8N
— Shweta Singh Kirti (@shwetasinghkirt) August 1, 2020
ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুশান্তের দেহরক্ষী রিয়া এবং সুশান্তের ব্যাপারে এমন কিছু তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন যা রহস্যকে জটিল থেকে জটিলতর করে তুলছে। ওই দেহরক্ষী জানিয়েছেন, গত বছর সুশান্তের ফার্মহাউজে প্রথম রিয়ার সঙ্গে দেখা হয় তার। সুশান্তের সঙ্গে সম্পর্কে আসার পরেই সুশান্তের বাড়ির পরিচারক থেকে বাকি কর্মচারীদের বের করে দিয়েছিলেন রিয়া। যদিও তাকে বের করেননি। ওই ব্যক্তির কথায়- ওষুধের ওভারডোজের কথা জানিনা। তবে ইয়োরোপ টুর থেকে এসে স্যার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সব সময়ে বিছানাতেই থাকতেন। সুশান্ত ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তেন। রিয়া এবং তার আত্মীয়েরা পার্টি করতেন। মহেশ ভাটের অফিসেও রিয়াকে ছাড়তে গিয়েছিলাম একবার।
এদিকে সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, আজ বিহার পুলিশ সুশান্তের ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য মুম্বাইয়ের কুপার হাসপাতালে পৌঁছুলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা দিতে অস্বীকার করে।
এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার প্রথম মুখ খুলেছেন রিয়া চক্রবর্তী। বিহার পুলিশের কাছে তার নামে দায়ের হওয়া এফআইআরের পর এই প্রথম সুশান্তের অস্বাভাবিক মৃত্যু প্রসঙ্গে কথা বললেন তিনি। রিয়ার বক্তব্য, ‘আমার সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমে ভয়ানক সব কথাবার্তা বলা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমার আইনজীবী কিছু বলতে বারণ করেছেন। দেশের বিচারব্যবস্থার উপর যথেষ্ট আস্থা রয়েছে। আমি বিচার পাব। সত্যিটা অবশ্যই সামনে আসবে।
সুশান্ত মৃত্যুরহস্যের তদন্তে বিহার পুলিশ শনিবার সকাল থেকেই তৎপর ছিল। এদিন জবানবন্দী রেকর্ড করা হয় পরিচালক রুমি জাফরির। রিয়ার এবং সুশান্তকে একসঙ্গে নিয়ে একটি ছবি পরিচালনা করার কথা ছিল রুমির। যে চিকিৎসকেরা সুশান্তের ময়নাতদন্ত করেছিলেন তাদেরও জেরা করা হতে পারে।❑



