
কন্যা সন্তান বলে ড্রামের পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করলেন মা
ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভুপালে শুক্রবার ২২ বছর বয়সী এক নারীকে তার বাড়ির পানির ট্যাঙ্কে ডুবিয়ে এক মাসে বয়সী মেয়েকে হত্যার অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ জানায়, ওই নারী জানিয়েছেন, তার স্বামী এবং শ্বশুর-শাশুড়ি কন্যা সন্তানে সন্তুষ্ট ছিলেন না। তারা পুত্র সন্তান চেয়েছিলেন।
ওই নারীর নাম সারিতা মেওয়াদা, তিনি ভুপালে দেহরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী শচীন এবং শ্বশুরবাড়ির সকলে ছেলে সন্তান চেয়েছিল। এতে সারিতা মানসিক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং তিনি নবজাতক কন্যাটিকেও অপছন্দ করতে শুরু করেছিলেন বলে জানান খাজুরি সদর থানার ইনচার্জ এলডি মিশ্র।
তিনি বলেন, এক নারী আত্মীয়া তাদের জানিয়েছেন যে সারিতা মানসিকভাবে সুস্থ ছিল না এবং ‘এক্সরসিজম’ (ভূত ঝাড়ান মন্ত্র) এর মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠছিল।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন মেয়ে কিঞ্জলকে নিয়ে ঘরেই ছিল অভিযুক্ত। তার স্বামী চাষের কাজে মাঠে গিয়েছিলেন। পরিবারের বাকি সকলেই উঠোনে ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, হঠাৎই তাদের পুত্রবধূ বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এসে জানান, সন্তানকে খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। চারিদিকে খুঁজলেও কোথাও সন্ধান মেলে নি। এরপরেই খবর দেওয়া হয় পুলিশে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান ছিল, হয় সদ্যোজাতকে খুন করা হয়েছে, নয়ত কোনও পশু শিশুটিকে বাড়ির বাইরে টেনে নিয়ে গিয়েছে। ফলে শুরু হয় তল্লাশি। বাড়ির চারিদিকে খোঁজা হয় তন্নতন্ন করে। শেষে বাড়ির একটি ৫০ লিটারের পানির ড্রাম থেকে শিশুটির দেহ উদ্ধার হয়। এরপরেই পুলিশের সন্দেহ বাড়ে। টানা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ভেঙে পড়েন অভিযুক্ত। স্বীকার করে নেন, মেয়ে হওয়ায় তিনি খুশি হয় নি। ফলে সন্তানকে খুন করেন তিনি।❐



