আন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্র

বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে ইহুদিদের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না: ইসরায়েলি মিডিয়া

হোয়াইট হাউসে লিয়াজোঁ কর্মকর্তা এবং ইহুদি বিদ্বেষ বিষয়ে তদারকি ও প্রতিরোধের জন্য দূত না থাকার কারণে নাখোশ যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিরা। তবে শিগগির এ দুটি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে বাইডেন প্রশাসন ঘনিষ্ঠদের সূত্রে।

বিভিন্ন ঘটনার উদাহরণ দিয়ে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে ইহুদি সম্প্রদায়ের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের পর বিশ্বজুড়ে ইহুদি বিদ্বেষ বাড়তে থাকে। এমন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি পদে প্রতিনিধি না থাকাটা বেশ বেমানান লেগেছে যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিদের কাছে। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেনের ইসরাইল সফর নিয়ে ৪ জুন আয়োজিত ব্রিফিংয়ে। সেখানে ইহুদি সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের অনুপস্থিতি ভাবনার মধ্যে ফেলে দেয় যুক্তরাষ্ট্রকে।

এ ধরনের ব্রিফিংয়ে সাধারণ ইহুদিদের বিভিন্ন গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কিন্তু সেদিন ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রধান প্রধান গ্রুপগুলোর প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং ইহুদি নারীদের প্রভাবশালী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুপস্থিত ছিলেন, যা অবাক করার মতো ঘটনা। এতে স্পষ্ট যে, বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে ইহুদি সম্প্রদায়ের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না।

এ দ্বন্দ্বের কারণ হলো ইহুদি বিদ্বেষ বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতা বুঝে নেওয়ার পর হোয়াইট হাউসে ইহুদি লিয়াজোঁ কর্মকর্তা এবং ইহুদি বিদ্বেষ প্রতিরোধ ও তদারকির জন্য কাউকে নিয়োগ দেয়নি।

ট্রাম্প প্রশাসনও ইহুদিদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে কোনো লিয়াজোঁ কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়নি সেসময়। যদিও ইহুদি বিদ্বেষ বিষয়ে তদারকির জন্য কর্মকর্তা নিয়োগে দিয়েছিল। কিন্তু এ নিয়োগের জন্য সময় নিয়েছিল দুই বছর। যদিও এর আগের প্রশাসনগুলো দায়িত্ব নেওয়ার শুরুর দিকে এ পদগুলোতে কাউকে না কাউকে নিয়োগ দিয়েছিল।

সভায় অনুপস্থিত গোঁড়া, রক্ষণশীল এবং সংরস্কারপন্থি এসব ইহুদি নেতাদের বলতে গেলে সবার সঙ্গে ইসরাইলের গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং অঞ্চলটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠাকে প্রভাবিত করার চেষ্টার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে তাদের।

এ পদগুলোতে দ্রুত কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি উঠেছে ইহুদিদের দিক থেকে। দাবির পক্ষের একজন স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা কারা ম্যাকডোনাল্ডকে দেওয়া এক চিঠিতে বলেছেন, আমি জানি বর্তমানে ইহুদি বিদ্বেষ প্রতিরোধ ও তদারকির জন্য দূত এবং হোয়াইট হাউসে ইহুদি লিয়াজোঁ কর্মকর্তা নেই। এটা কীভাবে সম্ভব?

অর্থডক্স ইউনিয়নের ওয়াশিংটনের প্রধান নাথান দিয়ামেন্ট বছরের পর বছর ধরে এ ধরনের ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।

তবে হোয়াইট হাউস যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিদের সুখবরই দিতে যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করে বাইডেন প্রশাসন ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, লিয়াজোঁ কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়ে শিগগির ঘোষণা আসতে যাচ্ছে।

নিয়োগের ক্ষেত্রে দেরির কারণে হিসেবে মহামারি করোনোভাইরাস সামলানো এবং বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্নির্মাণে বাইডেন প্রশাসনের ব্যস্ততার কথা বলা হচ্ছে।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র বলেন, ঘরে-বাইরে বিশ্বের সর্বত্র ইহুদি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। এ ছাড়া জেষ্ঠ্য কর্মকর্তারা বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং ধর্মীয় সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবেন।

বাইডেন প্রশাসন ঘনিষ্ঠ একজন জানান, ইহুদি বিদ্বেষ প্রতিরোধ ও তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন এমরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ দেবোরাহ লিপস্ট্যাড।

আর লিয়াজোঁ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার দৌড়ে রয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন- অ্যান্ড্রু দোলবার্গ, ডেন সেইগাল, সামান্থা জোসেফ, শেলি গ্রিনস্প্যান, গ্যাব্রিয়েল বারনেট এবং অ্যালেক্স গোল্ডম্যান। যাদের প্রায় প্রত্যেকেই ইহুদিদের মধ্যে বাইডেনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার কাজ করেছেন।

যা ভাবছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইহুদি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন টুইটারে বলেছিলেন, ইহুদি সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে ইসরাইল, পশ্চিম তীর এবং গাজার বিষয়ে ভালো আলোচনা হয়েছে। আমি ইহুদি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কথা দিয়েছি। একইসঙ্গে ইসরাইলি এবং ফিলিস্তিনি প্রত্যেকের সমান নিরাপত্তা, সুযোগ, স্বাধীনতা এবং মর্যাদা প্রাপ্য।

একই কথা ফিলিস্তিনি-আমেরিকান গ্রুপের নেতাদের সঙ্গেও বলেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

টুইটারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসরাইল, পশ্চিম তীর এবং গাজায় সহিংসতা নিয়ে ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। আমরা ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইসরাইলি এবং ফিলিস্তিনি প্রত্যেকের সমান নিরাপত্তা, সুযোগ, স্বাধীনতা এবং মর্যাদা প্রাপ্য।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension