
বিমানের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন আফগান, ভয়াবহ ভিডিও প্রকাশ
গতকাল সোমবার প্রকাশ হওয়া এক ভয়াবহ ভিডিওতে দেখা গেছে, কাবুল বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের সময় একটি বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ারের নিচে আটকা পড়ে পিষ্ট হচ্ছেন এক আফগান। আরও কিছু ফুটেজে দেখা গেছে বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল এরিয়ায় মেশিনগান, বডি আর্মার ও সশস্ত্র যান পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
প্রথম ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সি-১৭ সামরিক বিমানের চাকার নিচ থেকে এক ব্যক্তির পা বেরিয়ে আছে। চলন্ত বিমানের চাকার নিচে আটকা পড়া ওই ব্যক্তি ছটফট করতে করতে পা ছুড়ছিলেন।
পরে আমেরিকান কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, একটি বিমানের চাকার ফাঁকে আটকে থাকা একটি দেহাবশেষ পাওয়া গেছে।
আরেকটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কাবুলত্যাগের তাড়ায় বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল এরিয়ায় গুলিভর্তি অস্ত্রশস্ত্র, হেলমেট ও বডি আর্মার ফেলে গেছে বিদেশি সেনারা।
তালেবানরা কাবুল দখল করার পর বহু মানুষ আফগানিস্তান ছাড়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
দেশটি থেকে অন্তত ৪০ হাজার মানুষকে জরুরি ভিত্তিতে বের করে নেওয়া প্রয়োজন। তাদের মধ্যে ৩০ হাজার আমেরিকান এবং ৪ হাজার ব্রিটিশ রয়েছে। স্পেন, ফ্রান্স ও ভারত নিশ্চিত করেছে, তাদের অনেক কূটনৈতিক কর্মচারী আফগানিস্তান ছেড়েছে। রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া বলেছে, তাদের দূতাবাস আংশিক খালি করা হবে।
জার্মানি, পোল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি দেশ জানিয়েছে, তাদের কূটনীতিকদেরও আফগানিস্তান থেকে ফিরিয়ে আনা হবে। চীন ও ইরান এখন পর্যন্ত তাদের কূটনীতিকদের ফিরিয়ে আনার কোনো ঘোষণা দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের রাজনীতিবিদরা তাদের সরকারের কাছে অনুরোধ করেছে, ওই দুই দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া আফগানদের ক্ষেত্রে যেন উদারতা দেখানো হয়। কিন্তু আশঙ্কা করা হচ্ছে, পশ্চিমা বাহিনীকে সাহায্য করা হাজার হাজার আফগান রাজনৈতিক আশ্রয় থেকে বঞ্চিত থেকে যাবে।
এর আগে আফগানিস্তান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য মরিয়া হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমায় কাবুল বিমানবন্দরে। জানা গেছে, উড়ন্ত বিমান থেকে পড়ে অন্তত তিনজন মারা গেছেন। আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সড়ক থেকে তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্য একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, শত শত মানুষ মরিয়া হয়ে মার্কিন সামরিক বিমানে ওঠার চেষ্টা করছে। এ সময় বিমানের ছাদেও উঠে পড়েন কেউ কেউ। এমনকি বিমানের পাখায়ও ঝুলে পড়েন অনেকে।
কাবুলে সৃষ্ট আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সত্ত্বেও জো বাইডেন আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।
অনেক আফগানের আশঙ্কা, তালেবান এবারও আগের মতো কঠোর শরিয়া আইন চালু করবে দেশে। ১৯৯৬–২০০১ সালের তালেবান শাসনকালে নারীরা বোরখা না পরে এবং পুরুষ সঙ্গী না নিয়ে বাইরে বের হতে পারতেন না, চুরির অপরাধে হাত কেটে ফেলা হতো।
তবে তালেবান মুখপাত্র সুহাইল শাহিন বলেছেন, তালেবানরা নারীর অধিকার ও সংখ্যালঘুদের অধিকারের প্রতি আফগান রীতি ও ইসলামি মূল্যবোধ অনুসারে যথাযথ সম্মান দেখাবে।
শাহিন আরও বলেন, নতুন সরকারে সব জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব থাকবে। দেশ পুনর্গঠনের জন্য তালেবান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।
টুইটারে শাহিন বলেন, কারও কোনো ক্ষতি না করার জন্য তালেবান যোদ্ধাদের কঠোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: ডেইলি মেইল



