বিনোদন

‘পুজো মানেই পাঁঠার মাংস, মিষ্টি আর প্রিয় শাড়ির অঞ্জলি’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অভিনয় শিল্পী মিমি চক্রবর্তী মঙ্গলবার আনন্দবাজার পত্রিকার এক নিবন্ধে লিখেছেন, পুজো মানেই তার কাছে পাঁঠার মাংস, মিষ্টি আর প্রিয় শাড়ির অঞ্জলি।

মিমি লিখেছেন, প্রচুর খাওয়াদাওয়া করব। শরীর-স্বাস্থ্যের জন্য সারা বছর ডায়েট করি। এই পাঁচটা দিন কোনোরকম বিধিনিষেধ নৈব নৈব চ। মন ভরে মাংস খাব। ঝোলে-ঝালে-কষায়! পুজোর সময় আমার মিষ্টি প্রীতিও এক লাফে অনেকটা বেড়ে যায়। তাই দিনভর চুটিয়ে খাওয়া দাওয়ার পর শেষ পাতে মিষ্টি চাই-ই চাই!

তিনি বলেন, সবাই জানে আমার পায়ের তলায় সর্ষে। ঘুরে বেড়াতে খুব ভালবাসি। নতুন নতুন জায়গা দেখতে এ দিক- সে দিক ছুটে যাই। কিন্তু পুজোর সময় কলকাতা ছাড়া আর কোথাও থাকার কথা ভাবতেই পারি না। শহর জুড়ে হোর্ডিং, ছাতিম ফুলের গন্ধ, দূর থেকে ভেসে আসা ঢাকের আওয়াজ ছাড়া কি পুজো ভাবা যায়! প্রতি বছরের মতো এ বারও তাই শহরেই থাকছি।

মিমি চক্রবর্তী বলেন, পঞ্চমীতে আমার ছবি মুক্তি পেয়েছে। তার প্রচারের জন্য কয়েক দিন বেশ ব্যস্ত ছিলাম। দম ফেলারও সময় পাইনি। ছুটি পেলাম ষষ্ঠী থেকে। এই পাঁচটি দিন নিজের মতো করে কাটাব। পরিবারকে সময় দেব, আমার বাচ্চাগুলোর সঙ্গে খেলা করব। সারা বছর এই দিনগুলোর জন্যই যত অপেক্ষা। কাছের মানুষগুলোকে মনের মতো করে কাছে পাই। এ বছর মা আমার সঙ্গে রয়েছে। কাজের জন্য মাকে সময় দিতে পারি না। এই ক’দিন মায়ের কাছে যতটা থাকা যায়, থাকব। আমার আবাসনে বড় করে পুজো হয়। মায়ের সঙ্গে ওখানে অনেকটা সময় কেটে যাবে। প্রত্যেক বছরের মতো এ বারও মা আমাকে পুজোতে শাড়ি উপহার দিয়েছে। সেই শাড়িটা পরব বলে অপেক্ষা করে আছি। সারা বছর যতই ব্যস্ত থাকি না কেন, পুজোর আগে আমিও মায়ের জন্য উপহার কিনে ফেলেছি।

তিনি বলেন, পুজোয় ছুটি পাব, এ দিকে আড্ডা হবে না? এমন আবার হয় নাকি! এ বছর বন্ধুদের নিয়ে ঘরোয়া পার্টি হবে।

করোনাকে সঙ্গী করে আমাদের দ্বিতীয় পুজো। এত আনন্দ, উচ্ছ্বাসের মাঝেও কালো মেঘের মতো ছেয়ে রয়েছে মহামারীর ভয়। চাইব সব ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করেই উৎসবের উদযাপন হোক।

মিমি চক্রবর্তী বলেন, আমার বাড়ি থেকে বের হলেই গড়িয়াহাট। যাতায়াতের পথে দেখি অনেকেই মাস্ক না পরে ঘুরছেন, কেনাকাটা করছেন। কয়েক মাস আগেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের দাপট দেখেছি আমরা। বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। শহর জুড়ে তখন অক্সিজেনের হাহাকার, অ্যাম্বুলেন্সের আওয়াজ। আমি চাই না এই শহর আবারও সেই ভয়ঙ্কর দিনের সাক্ষী হোক। তাই আমাদের মাস্ক পরার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আরও সাবধানী হতে হবে। দরকার হলে জামার সঙ্গে মিলিয়ে মাস্ক তৈরি করুন। তাতে সাজের ব্যাঘাত ঘটবে না। কিন্তু দয়া করে প্রত্যেকে মাস্ক পরুন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension