
প্রবাসীরা পদ্মা সেতুর গর্বিত অংশীদার: স্পেন রাষ্ট্রদূত
বহুল প্রত্যাশিত ও কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গর্বিত অংশীদার বলে উল্লেখ করেছেন স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সরওয়ার মাহমুদ।
পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার স্পেনের বাংলাদেশ দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। সেখানে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংবাদিক সংগঠনসহ সবার উদ্দেশে এই অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে সমৃদ্ধ হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। বাঙালি জাতির গর্ব বহুদিনের প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু আগামী ২৫ জুন শুভ উদ্বোধন হবে। সম্পূর্ণ নিজেদের অর্থে এ সেতু নির্মিত হয়েছে,যার গর্বিত অংশীদার প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপ থেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর তালিকায় স্পেন অন্যতম। গত অর্থবছরে স্পেন থেকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে ৫৩.৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স। সোর্স ক্যান্টি হিসেবে স্পেন ২৩ তম স্থান অধিকার করেছে। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় স্পেন প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ জন্য প্রবাসীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়।
বৈধভাবে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অব্যাহত অগ্রযাত্রায় অংশ নেওয়ার এবং সরকারের আর্থিক প্রণোদনার কথা উল্লেখ তিনি বলেন, প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠালে সরকার তার উপর ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাই প্রবাসীদের বাংলাদেশিদের এ সুযোগটি গ্রহণ করার আহ্বান জানান। বাংলাদেশে বৈধভাবে রেমিট্যান্স পাঠাতে যে কোনো সমস্যায় দূতাবাস সকল ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।
দেশটিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্স প্রবাহে উৎসাহ দিতে তিনি দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ ইউংয়ের সহযোগিতায় রেমিট্যান্স পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দেন। গত জুলাই ২০২১ থেকে জুন ২০২২ পর্যন্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে বাংলাদেশে সর্বাধিক রেমিট্যান্স পাঠানো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চলতি বছর এ পুরস্কার দেওয়া হবে।
ভিডিও বার্তায় রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, স্পেনে প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন। তাদের সেবায় এরইমধ্যে আমরা দূতাবাসের কনস্যুলার সেবাকে সহজতর করেছি। অধিকতর সচ্ছতা প্রদান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে কার্ড ও ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে কনস্যুলার ফ্রি সরাসরি দূতাবাসের অ্যাকাউন্টে জমা নেওয়ার ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে। বার্সেলোনাসহ অন্যান্য শহরে প্রবাসীদের জন্য কনস্যুলার সেবা দেওয়া হচ্ছে। দূরবর্তী প্রবাসীদের জন্য ডাকযোগে সেবা সার্ভিস চালু করা হয়েছে। ফলে দূরের প্রবাসীরা দূতাবাসে না এসেই সেবা নিতে পারছেন।
কনস্যুলার সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি আরও বলেন,স্পেনে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ করা হয়েছে। যে কেউ অনলাইনে আবেদন করে জন্মসনদ নিতে পারবেন। পাসপোর্ট সংশোধন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ইত্যাদি প্রক্রিয়া সহজতর করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে অতিদ্রুত সকল প্রক্রিয়া আগের তুলনায় আরও সহজ হবে।



