
কালের গর্ভ থেকে আলোয়
প্রাচীন এই পৃথিবীর কত কিছুই না হারিয়ে গেছে কালের গর্ভে। প্রত্নতাত্ত্বিকরা ক্রমাগত অনুসন্ধান আর খোঁড়াখুঁড়ি করে সেই কালের নিদর্শনগুলো বের করে নিয়ে আসেন। সেগুলো নতুন করে ভাবায় আমাদের। পুরোনোকে নতুনভাবে বুঝতে শেখায়। ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমান আর ভবিষ্যতের সংযোগ তৈরি করে এসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।
গত বছরের শেষ দিকেও প্রত্নতাত্ত্বিকরা বেশ কিছু প্রাচীন ব্রোঞ্জ ভাস্কর্যের সন্ধান পেয়েছেন ইতালির টাসকানি এলাকা থেকে। এগুলো বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ হচ্ছে, এর মধ্যে রয়েছে ২৩০০ বছরের পুরোনো গ্রিক-রোমান দেবতাদের মূর্তি। রয়েছে যুদ্ধ ও সত্যের দেবতা অ্যাপোলো, স্বাস্থ্যের দেবি হাইজিনিয়ার মূর্তি।
টাসকানির পাহাড়ি এলাকা স্যান ক্যাসিয়ানোর প্রাচীন আমলের এক কর্দমাক্ত পরিত্যক্ত বাথরুম থেকে প্রাচীন রোমান সভ্যতার এই মূর্তিগুলো উদ্ধার করা হয়। এলাকাটি রোম থেকে থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তরে।
সিনার ইউনিভার্সিটি অব ফরেনার্স-এর সহকারী অধ্যাপক জাকোপো তাবোল্লি একে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ভাস্কর্যগুলোর আশপাশে পাওয়া গেছে প্রায় ৬ হাজার স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জমুদ্রা। এগুলো যিশুখ্রিষ্টের জন্মের আগের দু শ বছর এবং তার মৃত্যু-পরবর্তী এক শ বছরের মধ্যে তৈরি করা হয়েছিল, যে সময় প্রাচীন টাসকানি ইউট্রাসকান থেকে রোমান শাসনামলের দিকে ধাবিত হচ্ছিল। সময়টা ছিল সংঘাতপূর্ণ ও সাংস্কৃতিক মিশ্র প্রভাবের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইতিহাস নতুন করে লেখার তাগিদ দিতে পারে এই আবিষ্কার।
খননকাজের প্রধান জাকোপো তাবোল্লি জানান, ভাস্কর্যগুলোকে পানিতে অর্পণ করেছিলেন সে সময়কার মানুষরা। তারা বিশ্বাস করতেন, পানিতে কিছু দান করলে পানিও তাদের কিছু দান করবে। ফলে হাজার বছর ধরে পানিতেই সংরক্ষিত ছিল ব্রোঞ্জের তৈরি এই ভাস্কর্যগুলো।
খননকাজ শেষ হওয়ার পর শিল্পকর্মগুলোকে পাঠানো হবে গ্রোসেটোর এক রেস্টোরেশন ল্যাবে। সেখান থেকে সেগুলোকে যাবে স্যান ক্যাসিয়ানো জাদুঘরে। সেখানেই এই ভাস্কর্যগুলো প্রদর্শনীর জন্য রাখা থাকবে।
সূত্র বিবিসি



