
দুই স্কুল কর্মচারীর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগের নিন্দা এইচআরএফপির
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের পাকপত্তন জেলার তহশিল আরিফওয়ালায় মুসাররাত বিবি নামে এক খৃস্টান নারী এবং মুহাম্মদ সারমাদ নামে এক মুসলিম ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার (ব্লাসফেমি) অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা দু’জনই একটি স্কুলের কর্মচারী। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে দেশটির মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ফোকাস পাকিস্তান (এইচআরএফপি)। সেই সঙ্গে গ্রেপ্তার ওই দুজনকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে সংস্থাটি।
দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানকার একটি স্কুলে মুসাররাত বিবি পিয়ন হিসেবে এবং মোহাম্মদ সারমাদ বাগানের মালি হিসেবে কাজ করতেন। সেই স্কুলে পবিত্র কোরআনের দু’টি পৃষ্ঠা পোড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ১৯ এপ্রিল পাকপত্তন জেলার তহশিল আরিফওয়ালার সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে অভিযুক্ত দুজনকে আক্রমণের জন্য লোকজনের জমায়েত দেখে কাশিফ নাদিম নামে এক ব্যক্তি পুলিশে খবর দেন।ভিড় জমানো জনতার অভিযোগ, গত ১৫ই এপ্রিল মুসাররাত বিবি ও মুহাম্মদ সারমাদ স্কুলে কোরআনের অবমাননা করেছেন। যে কারণে ঘটনাস্থলেই তাদের শাস্তি পেতে হবে।এইচআরএফপির ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীদের পরিবার, স্কুলের কর্মকর্তা, স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। পরে জানা যায়, ১৫ এপ্রিল বিকেলে মুসাররাত বিবি ও মুহাম্মদ সারমাদকে স্কুলের স্টোর রুম পরিষ্কার করার দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর তারা পুরনো ও ক্ষতিগ্রস্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করে বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলতে বলা হয়। মুসাররাত বিবির ভাই ইউনাস মসিহ এইচআরএফপিকে জানিয়েছেন, তার বোনসহ মুহাম্মদ সারমাদের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ সঠিক নয়।
তারা দু’জন শুধু স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নাসরিন সাঈদের অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা শুধু ওই এলাকা পরিষ্কার করেছেন। স্কুলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা যেসব আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলেছেন তার মধ্যে কোনও পবিত্র কাগজ ছিল না। তা ছাড়া মুসাররাত বিবি ও মুহাম্মদ সারমাদ পড়তে পারেন না। তারা যখন স্কুলের আবর্জনা পরিষ্কার করছিলেন, তখন ছাত্ররা অভিযোগ করেছে যে দুজনে কোরআনের আয়াতসহ কাগজ পুড়িয়ে দিয়েছেন। এ কারণে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৯শে এপ্রিল আরিফওয়ালা জেলে পাঠানো হয় বলে যোগ করেছে এইচআরএফপি। এই মামলায় অভিযুক্তদের আইনি সহায়তা দিচ্ছে এইচআরএফপি। সেই সঙ্গে তাদের সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাও নিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্র: দ্য প্রিন্ট



