আন্তর্জাতিকবাংলাদেশ

উহানের ল্যাব থেকে কভিড ছড়ানোর প্রমাণ পায়নি মার্কিন গোয়েন্দারা

চীনের উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি (ডব্লিউআইভি) থেকে কভিড-১৯ ছড়ানোর সরাসরি কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গতকাল শুক্রবার (২৩ জুন) উন্মুক্ত হওয়া এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা যায়। যেখানে মার্কিন গোয়েন্দাগুলোর অনুসন্ধান নথিবদ্ধ করা হয়ছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও বিবিসি।

অফিস অব দ্য ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের (ওডিএনআই) ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইরাসটি পরীক্ষাগার থেকে এসেছে সেই আশঙ্কা এখনো উড়িয়ে দিতে পারেননি গোয়েন্দারা। তবে এর উৎস আবিষ্কারে সক্ষম হয়নি তারা।

তবে এও বলা হয়েছে, বেশির ভাগ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা একমত যে ভাইরাসটি জিনগতভাবে প্রকৌশল বা গবেষণাগারে অভিযোজিত ছিল না।

ওডিএনআইয়ের দশ পৃষ্টার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাকৃতিক ও গবেষণাগার ভাইরাসের এই দুই উৎস নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য রয়েছে। যা সিদ্ধান্ত নিতে তাদের চ্যালেঞ্জে ফেলেছিল। উহানের গবেষণাগারের ওপর বিস্তৃত কাজ করলেও প্রাদুর্ভাবে অভিযুক্ত করার মতো সুনির্দিষ্ট ঘটনার প্রমাণ পায়নি।

চারটি সংস্থার অনুমান, প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়েছিল কভিড-১৯। তবে এফবিআই ও অন্য একটি সংস্থার অনুমান, ভাইরাস একটি ল্যাব থেকে ফাঁস হয়েছে।

সব মিলিয়ে এখনো পরীক্ষাগার থেকে ভাইরাস ছড়ানের আশঙ্কা উড়িয়ে দিতে পারেনি গোয়েন্দারা। তবে তারা একমত যে, কভিড-১৯ জৈব অস্ত্র হিসেবে তৈরি করা হয়নি।

এতে বলা হয়েছে, ডব্লিউআইভি ও চীনা সেনাবাহিনী জনস্বাস্থ্যের প্রয়োজনে করোনভাইরাস নিয়ে কাজ করেছে। আবার জিন প্রকৌশল ঘটিয়ে তাকে আড়ালের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া হয়নি।

মার্কিন আইনপ্রণেতারা কভিড উৎস সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশের জন্য গোয়েন্দাদের চাপ দিয়ে আসছিলেন। তবে তারা বারবার বলে আসছে, চীনের সরকারি বাধা মহামারীর উৎস নির্ধারণ অসম্ভব করে তুলেছে।

২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহান শহরে প্রথমবারের মতো কভিড-১৯ শনাক্ত হয়। প্রাথমিক উৎসস্থল একটি বাজার থেকে ওই ল্যাবের দূরত্ব ৪০ মিনিটের। তখন থেকেই মহামারীর উৎস যুক্তরাষ্ট্রে তুমুল বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত মার্চে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মহামারীর উৎস সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশের একটি বিলে স্বাক্ষর করেন। ওই সময় তিনি বলেন, এ সম্পর্কে যতটা সম্ভব তথ্য প্রকাশ তাদের লক্ষ্য।

গত ফেব্রুয়ারিতে এফবিআই পরিচালক ক্রিস্টোফার ওয়ে বলেছিলেন, মহামারীটির উৎস সম্ভবত উহান শহরের গবেষণাগার থেকে ছড়ানো। চীন বলেছে, এই দাবির কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুসন্ধানও তেমন কোনো তথ্য দিতে পারেনি।

অবশ্য কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা, প্রায় ৭০ লাখ মানুষের হত্যাকারী কভিডের আসল উৎস কখনোই জানা যাবে না।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension