
যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দেয়ার পর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ উত্তর কোরিয়ার
জাপানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি সন্দেহভাজন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রটি এক ঘণ্টারও বেশি সময় আকাশে ছিল। খবর বিবিসি।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, আজ বুধবার (১২ জুলাই) সকালে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের জলসীমায় অবতরণ করেছে।
সম্প্রতি নিজেদের এলাকায় মার্কিন গুপ্তচর বিমানের অনুপ্রবেশের অভিযোগ তোলে পিয়ংইয়ং। এ ঘটনায় প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দেয়ার পর ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ হলো।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জাপানের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫৯ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয় ও বেলা সোয়া ১১টায় জাপান সাগরে পড়ে।
ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর এই অঞ্চলে চলাচল করা জাহাজকে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়।
গত মার্চ ও এপ্রিলে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছিল উত্তর কোরিয়া। ওই দুটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম আইসিবিএম। ধারণা করা হচ্ছে, সর্বশেষটি একই ধরনের হতে পারে।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে উত্তর কোরিয়া অভিযোগ তোলে, পূর্ব সাগরে মার্কিন গোয়েন্দা বিমান সনাক্ত করেছে তারা। এই ধরনের উড়োযানকে গুলি করারও হুমকি দেয়। তবে ওয়াশিংটন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তাদের সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারাও স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ শনাক্ত করার কথা জানিয়েছেন। তাদেরও ধারণা, এটি আইসিবিএম।
দূরপাল্লার হওয়ায় আইসিবিএমকে বরাবরই ‘বিশেষভাব উদ্বেগজনক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে।
গত মাসে কোরীয় যুদ্ধ শুরুর ৭৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে পিয়ংইয়ংয়ে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী সমাবেশে যোগ দেয় দেশটির হাজার হাজার নাগরিক। তারা ‘কোরীয় উপদ্বীপের শান্তি ও স্থিতিশীলতার ধ্বংসকারী’ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নিন্দা জানায়। পারমাণবিক যুদ্ধের সতর্ক বার্তাও দেয়।
এ অঞ্চলে উত্তর কোরিয়া বিরোধী জোট হিসেবে কাজ করছে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। দেশগুলো উত্তর কোরিয়ার সামরিক হুমকি প্রতিহত করার লক্ষ্যে নিয়মিত যৌথ ও ত্রিপক্ষীয় সামরিক মহড়া করছে।



