
UAE আগেই পাইলটদের তথ্য দিয়েছিল ইসরায়েলকে, তবু ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে হামলা
উগ্রবাদী মনোভাবের অভিযোগে ওমানে উড়োজাহাজ চালানোয় নিষিদ্ধ ছিলেন সহ-পাইলট; ১৮২ আরোহীর জীবন রক্ষায় ভারতীয় ক্যাপ্টেনের সাহসিকতা
শাহ্ জে. চৌধুরী :
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানে সহ-পাইলটের হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। হামলার আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) ফ্লাইটের যাত্রী ও ক্রুদের পরিচয়, এমনকি পাইলটদের নাম ও জাতীয়তাও ইসরায়েলকে জানিয়েছিল। তারপরও কীভাবে উগ্রবাদী মনোভাবের অভিযোগে ওমানে উড়োজাহাজ চালানো থেকে নিষিদ্ধ এক ব্যক্তি আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী বিমানের ককপিটে দায়িত্ব পেলেন, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (AP) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট FZ1073-এ এ ঘটনা ঘটে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওমানি নাগরিক সহ-পাইলট ককপিটের জরুরি কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে উড়োজাহাজে থাকা ১৮২ জনের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে।
গুরুতর আহত হয়েও ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার অসাধারণ সাহসিকতায় ককপিটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে বিমানের অন্য ক্রু ও যাত্রীরা অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন। একপর্যায়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে উড়োজাহাজটি। প্রাণে রক্ষা পান ১৮২ আরোহী।
আগেই উড়োজাহাজ চালানোয় নিষেধাজ্ঞা
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, উগ্রবাদী চিন্তাধারা নিয়ে উদ্বেগের কারণে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে ওমানের বিমান সংস্থা ওমান এয়ারে উড়োজাহাজ চালানো থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। পরে তাঁকে প্রশাসনিক দায়িত্বে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরি পান।
তাঁর অতীত কর্মজীবনের তথ্য ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ নিয়োগের সময় যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তথ্য বিনিময়, তবু নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ
AP-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, UAE কর্তৃপক্ষ ফ্লাইটের যাত্রী ও ক্রুদের তালিকা ইসরায়েলকে সরবরাহ করেছিল। এতে পাইলটদের নাম ও জাতীয়তার তথ্যও ছিল। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ওই তালিকায় কারও বিষয়ে আপত্তি জানায়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের বক্তব্য, বিদেশি ফ্লাইটের যাত্রী তালিকা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়ের। অন্যদিকে পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ বলেছেন, তাঁর মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে কোনো তথ্য বা সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি।
ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলে আসা বিদেশি বেসামরিক উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে নতুন উদ্বেগ
ইসরায়েল ও ওমানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় দেশ দুটির মধ্যে বিমান চলাচল ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
একজন পাইলটের অতীত কর্মজীবনে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ থাকার পরও কীভাবে তিনি অন্য দেশের আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থায় ককপিটের দায়িত্ব পেলেন, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমান নিরাপত্তা শুধু যাত্রীদের পরিচয় যাচাই বা বিমানবন্দরের তল্লাশিতে সীমাবদ্ধ নয়। ককপিটে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তির অতীত, মানসিক অবস্থা, পেশাগত যোগ্যতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি যাচাইও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
১৮২ আরোহীর জীবন অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়ার এ ঘটনা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে পাইলট নিয়োগ, নিরাপত্তা তথ্য বিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সমন্বয়ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে।
ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



