আন্তর্জাতিক

ইতালিতে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকাডুবিতে মা-শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ ৩০

ইতালীয় দ্বীপ ল্যাম্পেদুসার কাছে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দুটি নৌকা ডুবে দুজন মারা গেছেন এবং কমপক্ষে ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তিউনিসিয়ার স্ফ্যাক্স বন্দর থেকে যথাক্রমে ৪৮ ও ৪২ জন অভিবাসী নিয়ে দুটি নৌকা রওনা হয়েছিল বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আজ রোববার এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে। খবর বিবিসির।

ইতালির কোস্ট গার্ডরা আইভরি কোস্ট থেকে এক নারী ও তার এক বছরের সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে। ইতালীয় কর্তৃপক্ষ নৌকাডুবির বিষয়ে তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে।

গতকাল শনিবার ল্যাম্পেডুসার দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ২৩ নটিক্যাল মাইল দূরে নৌকা দুটি ডুবে গেলে কোস্ট গার্ডরা ৫৭ অভিবাসীকে উদ্ধার করেন। এর আগে জুনে গ্রিসে নৌকাডুবিতে কমপক্ষে ৭৮ জন মারা গিয়েছিল এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ হয়েছিল।

রোববার অগ্নিনির্বাপক ও পর্বত উদ্ধারকারী দল ল্যাম্পেদুসার উপকূলের একটি পাথুরে অংশে আটকে পড়া ২০ অভিবাসীকে উদ্ধারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। প্রবল বাতাসে নৌকাগুলোকে পাথরের মধ্য আটকা পড়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাত থেকে অভিবাসীরা সেখানে রয়েছে।

এদিকে খারাপ আবহাওয়ার মধ্য দুই দিনের বেশি উদ্ধারচেষ্টার পর দাতব্য সংস্থা ওপেন আর্মস জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ ইতালির ব্রিন্ডিসি বন্দরে ১৯৫ জন উদ্ধারকৃত অভিবাসীকে নামানো শুরু করেছে।

মানব পাচারকারীরা সমুদ্রে ঝড়ের পূর্বাভাসের ব্যাপারে জানত উল্লেখ করে তদন্তরত পুলিশ প্রধান ইমানুয়েল রিসিফারি স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যারা তাদের অনুমতি দিয়েছে বা বাধ্য করেছে এই সমুদ্র পাড়ি দিতে, সে একজন অপরাধী।’

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইতালীর টহল নৌকা ও দাতব্য গোষ্ঠীগুলো দ্বীপে আসা আরও দুই হাজার মানুষকে উদ্ধার করেছে। রেড ক্রস কিছু অভিবাসীকে খাবার, পানি, কাপড় ও জরুরি কম্বল সরবরাহ করেছে। তবে ঝোড়ো আবহাওয়া ও নিম্নমানের নৌকার কারণে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে বলে কোস্ট গার্ড জানিয়েছে।

রিসিফারি মানব পাচারকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘আগামী কয়েক দিনের জন্য রুক্ষ সমুদ্রের পূর্বাভাস রয়েছে। আশা করি তারা থামবে। তারা অভিবাসীদের এই সমুদ্রে হত্যার জন্য পাঠাচ্ছে।’

দাতব্য সংস্থাগুলো বলছে, ইতালির অতি-ডানপন্থী সরকার আইন পাস করে তাদের কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

নতুন আইনের কারণে উদ্ধারকারী জাহাজগুলো দূরবর্তী বন্দরগুলো ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। পাশাপাশি তারা সতর্ক করেছে, নতুন আইনের ফলে তাদের নেভিগেশন খরচ বেড়েছে এবং ভূমধ্যসাগরের অঞ্চলগুলোতে জাহাজের টহল দেওয়ার সময় হ্রাস হয়েছে, যেখানে এ ধরনের দুর্যোগ সাধারণ।

ইতালীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সমুদ্রপথে অভিবাসনের পরিসংখ্যান এ বছর দ্বিগুণ হয়ে ৯২ হাজারে দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালে একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৪২ হাজার ৬০০।

অন্যদিকে উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে মধ্য ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে এক হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক বলে মনে করা হয়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, প্রকৃত পরিসংখ্যান অনেক বেশি হতে পারে। সংস্থার মুখপাত্র ফ্লাভিও ডি গিয়াকোমো বলেছেন, ‘সমুদ্রে প্রচুর মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে, যা থেকে বোঝা যায় এমন অনেক নৌকার ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, যা সম্পর্কে আমরা কখনো শুনিনি।’

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension