
পাকিস্তানে আরও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তান সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) থেকে কার্যকর হওয়া নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত তিন দিনের জন্য প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৫ টাকা ৪৪ পয়সা এবং হাই-স্পিড ডিজেলের (এইচএসডি) দাম ৩১ টাকা ৫ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। খবর দ্য ডনের
দাম বৃদ্ধির পর প্রতি লিটার পেট্রোলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১৬ টাকা ১৫ পয়সা এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ৩৫৪ টাকা ৩৫ পয়সা।
পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন দাম ১৮ জুলাই (শনিবার) থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে গত ৩ এপ্রিল ডিজেলের দাম সর্বোচ্চ ৫২০ টাকা ৩৫ পয়সায় পৌঁছেছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রতি লিটার ২৮১ টাকা থেকে ডিজেলের দাম বাড়তে শুরু করে।
অন্যদিকে মার্চের প্রথম সপ্তাহে প্রতি লিটার ২৬৬ টাকা থেকে বাড়তে শুরু করে পেট্রোলের দাম। পরে ৩ এপ্রিল তা সর্বোচ্চ ৪৫৮ টাকা ৪১ পয়সায় পৌঁছায়।
এর আগে শুক্রবারই পাকিস্তানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক ঘোষণা দেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার কারণে এখন থেকে প্রতিদিন জ্বালানির দাম নির্ধারণ করা হবে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে মার্চের শুরু থেকে সরকার প্রতি সপ্তাহে জ্বালানির নতুন মূল্য ঘোষণা করছিল। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেল সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্ন মোকাবিলায় জ্বালানি সাশ্রয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপও নেওয়া হয়। গত এপ্রিলে সরকার ভর্তুকি মূল্যে জ্বালানি সরবরাহের জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচিও ঘোষণা করেছিল।
পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী জানান, মন্ত্রিসভা ও প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা বিবেচনায় প্রতিদিন জ্বালানির দাম নির্ধারণের দায়িত্ব থাকবে অয়েল অ্যান্ড গ্যাস রেগুলেটরি অথরিটির (ওগ্রা) ওপর।
তিনি আরও বলেন, ওগ্রা শুধু তাদের ওয়েবসাইটে নতুন জ্বালানির মূল্যই প্রকাশ করবে না, বরং প্রতিটি পেট্রোলপাম্পে যে দামে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে, সেই দাম নির্ধারণের কারণও প্রকাশ করবে।
বর্তমানে সরকার প্রতি লিটার পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর প্রায় ১০৫ টাকা বিভিন্ন কর ও চার্জ আদায় করছে। এর মধ্যে রয়েছে শুল্ক, পেট্রোলিয়াম লেভি, জলবায়ু সহায়তা লেভি এবং অভ্যন্তরীণ পরিবহন সমন্বয় চার্জ।
তবে প্রতিদিন জ্বালানির দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে অল পাকিস্তান ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী সপ্তাহে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
পেট্রোল ও হাই-স্পিড ডিজেল পাকিস্তানের জ্বালানি খাতের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত পণ্য। প্রতি মাসে এ দুই জ্বালানির বিক্রি হয় প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টন। তুলনায় কেরোসিনের মাসিক চাহিদা মাত্র ১০ হাজার টনের মতো।



